গণপিটুনি নয়, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয়েছে তাবরেজ আনসারির!

‘জয় শ্রীরাম’ কেলেঙ্কারিতে গুণপিটুনীতে নিহত তাবরেজ আনসারী নামের সেই যুবকের মৃত্যু নিয়ে এবার বিস্ময়কর তথ্য দিলেন চিকিসক

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:৩৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯ | আপডেট: ৬:৩৮:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

গণপিটুনির ফলে মৃত্যু হয়নি তাবরেজ আনসারির, অন্তত ময়নাতদন্তের রিপোর্ট একথাই বলছে। ঝাড়খণ্ডে গণপিটুনির ফলেই মারা গেছেন চব্বিশ বছরের ওই যুবক, এই অভিযোগ উঠলেও তাঁর মৃতদেহের ময়নাতদন্তকারী দলের মধ্যে থাকা এক চিকিৎসক জানিয়েছেন যে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মারা গেছেন।

“এটি আমার একার রিপোর্ট নয়। একটি চিকিৎসক দল মিলে এই রিপোর্ট তৈরি করেছে,” ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ড. বি মার্ডি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে এ কথা জানান।

ফলে ওই গণপিটুনির ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ খারিজ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

জনতার মারধরের কারণেই তাবরেজ মারা যাননি কীভাবে এ কথা বলতে পারছেন তিনি, এমন প্রশ্নের জবাবে ড. মার্ডি বলেন, “দেখুন, তাঁকে মারধর করা হয়েছিল ঠিকই কিন্তু সেটাই তাঁর মৃত্যুর মূল কারণ হলে সেদিন বা তার দুই-তিন দিন পরেই মৃত্যু হত তাঁর। ১৭ তারিখ রাতে তাঁকে মারধর করা হয়েছিল। ২২ তারিখ সকালে তিনি মারা যান। এর মধ্যে তিনি হাঁটাচলা করেছেন এবং কথাও বলেছিলেন বলে জানা যায়। আমরা জেলের মধ্যে ছিলাম না, তবে আমাদের জানানো হয়েছিল যে তিনি জেলের অভ্যন্তরে ভালই আছেন।”

“প্রবল মানসিক চাপের কারণে ওই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে, তবে হ্যাঁ এই গণপিটুনির ফলে পাওয়া আঘাত থেকেও বাড়তে পারে মানসিক চাপ”, বলেন ওই চিকিৎসক। তাবরেজ আনসারির ময়নাতদন্তের রিপোর্টে কোনও বিষ পাওয়া যায়নি বলেও জানিয়েছেন ওই চিকিৎসক।

প্রসঙ্গত, জুন মাসে ঝাড়খণ্ডে মোটর সাইকেল চোর সন্দেহে গণপিটুনির জেরে মৃত্যু হয় ২৪ বছরের ওই যুবকের। তবে ওই গণপিটুনির ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ খারিজ করা হয়।

পুলিশি অবহেলা ও চিকিৎসকদের গাফিলতিই তাবরেজের মৃত্যুর কারণ বলে তদন্তে বের হলেও পুলিশ জানায়, মৃত তাবরেজ আনসারির ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে গণপিটুনিতে নয়, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন । ফলে ওই হামলায় অভিযুক্ত ১১ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয় । শনিবার আরও এক অভিযুক্ত আত্মসমর্পণ করলে দ্বাদশ অভিযুক্ত হিসাবে তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু কেউ-ই খুনের দায়ে আর অভিযুক্ত নয় এখন।

ঝাড়খণ্ডের সারাইকেলা-খারওয়ানে আরও দুই যুবককে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেল চুরি করছিলেন এই সন্দেহে তাবরেজ আনসারিকে কয়েক ঘন্টা ধরে বেধড়ক মারধর করে উত্তেজিত জনতা। মারধরের পাশাপাশি ওই যুবককে “জয় শ্রী রাম” জপ করতেও বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জি কিশন রেড্ডি বলেন যে এটি একটি “দুর্ভাগ্যজনক” ঘটনা। সংবাদসংস্থা পিটিআই তাঁকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, “আদালতে কী ঘটেছিল আমি জানি না। আমি চাই যে যা ঘটেছিল, যা কিছু অপরাধমূলক ঘটনা ঘটেছে, দোষীদের তার জন্যে শাস্তি হওয়া উচিত”। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গেও একই ঘটনা ঘটেছিল। অতীতে এ জাতীয় বহু ঘটনা ঘটেছে, তবে সবই যে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে ঘটেছে তা নয়”।

তাবরেজ আনসারির মৃত্যুর পর তদন্তে নেমে সারাইকেলা-খারওয়ানের জেলা প্রশাসক অঞ্জনেউলু দোডের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল প্রাথমিক ভাবে পুলিশ এবং তদন্তকারী চিকিৎসক উভয়পক্ষকই তাঁর মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছিলেন।

জুলাই মাসে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, “পুলিশ দেরিতে পৌঁছনোয় চিকিৎসকরাও মাথার খুলির আঘাতের সঠিক পরিমাণ শনাক্ত করতে পারেননি।”