গাজায় যুদ্ধাপরাধ করেছে ইসরাইল : হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:২০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২১ | আপডেট: ৯:২০:অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২১

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ১১দিন ধরে চালানো ইসরাইলের হামলা স্পষ্টতই যুদ্ধাপরাধ বলে অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। গত ১০ মে থেকে গাজায় ওই আক্রমণাত্মক হামলা চালায় ইসরাইলের সেনাবাহিনী। খবর আলজাজিরা।

মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

ইসরায়েলের তিনটি বিমান হামলার দীর্ঘ তদন্তের পর মানবাধিকার সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বিমান হামলায় কমপক্ষে ৬২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের ১১ দিনের বিমান হামলায় ৬৭ শিশু ও ৩৯ নারীসহ অন্তত ২৬০ জন নিহত হয়েছেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গাজায় গত ১০ মে থেকে টানা ১১ দিনের হামলার মধ্যে তিনটি হামলা নিয়ে তদন্ত করে। তদন্তে গত ১৬ মে চালানো বিমান হামলাকে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করা হয়। ওই হামলায় তিনটি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। নিহত হয় ১৮ শিশু, ১৪ নারীসহ অন্তত ৪৪ জন বেসামরিক নাগরিক। ইসরায়েলের দাবি, তাদের হামলার মূল লক্ষ্য ছিল হামাসের ব্যবহৃত সুড়ঙ্গপথ।

গাজার উত্তরে বেট হানুন এলাকায় গত ১০ মের বিস্ফোরণকেও গুরুত্ব দেয়া হয় তদন্তে। ওই ঘটনায় ছয় শিশুসহ আটজন নিহত হন। তৃতীয়ত, গত ১৫ মে গাজার শাতি শরণার্থী শিবিরের একটি তিনতলা ভবনে বিমান হামলায় নারী-শিশুসহ ১০ জন নিহত হন।

মানবাধিকার সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল কোনো ধরনের পূর্বসতর্কতা ছাড়াই গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি জিবিইউ-৩১ বোমা ব্যবহার করেছে।

সংস্থাটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরাইয়েলকে লক্ষ্য করে হামাস যে চার হাজার রকেট হামলা করেছে, সেটিও যুদ্ধাপরাধের শামিল। কারণ হামাসের রকেট হামলায় ইসরায়েলের দুই শিশু ও এক সৈন্যসহ ১২ জন নিহত হন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কর্মকর্তা গেরি সিম্পসন বলেন, গত মে মাসে কোনো সামরিক লক্ষ্য ছাড়াই গাজায় হামলা চালিয়ে কয়েকটি পরিবারকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয় ইসরায়েল। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা যুদ্ধাপরাধ অভিযোগ তদন্তের ব্যাপারেও আগ্রহী নয়। তবে দুই পক্ষের হামলাই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।

প্রতিবেদনে মূলত যুদ্ধের সময়ে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ফিলিস্তিনের হামাস ও অন্য গোষ্ঠীগুলো সম্পর্কে আগামী আগস্টে পৃথক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এই প্রতিবেদনের বিষয়ে ইসরায়েল এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। যদিও শুরু থেকে তাদের দাবি, ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল গাজায় হামাসের সমরিক স্থাপনাগুলো।