গাজীপুরে পোশাক শ্রমিক বিক্ষোভ ভাঙচুর পুলিশের টিয়ার শেল নিক্ষেপ

প্রকাশিত: ১০:০৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০১৯ | আপডেট: ১০:০৭:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০১৯

শামসুল হক, গাজীপুর প্রতিনিধি : বেতন ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরে কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা মঙ্গলবার কর্মবিরতি, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেছে। এসময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের ব্যবহৃত একটি মোটরসাকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সর্টগানের গুলি ও টিয়ার সেল ছুড়েছে।

শ্রমিক অসন্তোষের মুখে এদিন গাজীপুর মহানগরের ভোগড়া ও আশেপাশের এলাকার কয়েকটি কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। ভ্রান্ত ধারণা থেকে শ্রমিকরা অযৌক্তিকভাবে এ আন্দোলন করছে বলে পুলিশ ও কারখানা কর্তৃপক্ষ দাবী করেছে।

আউটপাড়া এলাকার জোবেদা টাওয়ারের টিএন ফ্যাশনের অপারেটর সোহল জানান, সরকার ঘোষিত মুজুরী কাঠামো অনুযায়ী বেতন ভাতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ এতে সাড়া না দেয়ায় শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে চান্দনা-চৌরাস্তার দক্ষিণে আউটপাড়া এলাকার শহীদ হুরমত আলীর কবরের পাশের ব্রাদার ফ্যাশন, ক্যাপিটাল ফ্যাশন কারখানার গেইটে তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

একপর্যায়ে তারা পাশের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে নেমে গেলে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এসময় পুলিশ গিয়ে টিয়ার সেল মেরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। বিক্ষোভ চলাকালে স্থানীয় টিএন ফ্যাশন, এপারেলস পোশাক কারখানা, পশমী সোয়েটার, ক্যাপিটাল ফ্যাশনসহ কয়েকটি কারখানা ছুটি দেয় কর্তৃপক্ষ।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানার ওসি মুক্তার হোসেন জানান, বিক্ষোভ চলাকালে উত্তেজিত শ্রমিকরা বাসন থানার ওসি (অপারেশন) নন্দলালের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. আনিসুর রহমান জানান, একই দিন দুপুরের খাবারের বিরতির পর ভোগড়া বাইপাস মোড়ের পশ্চিমে পেয়ারা বাগান এলাকায় ভিএন্ডআর ফ্যাশন বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা কারখানা ইটপাটকেল ছুড়ে ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা পাশের ঢাকা বাইপাস সড়কে নেমে অবস্থান নিলে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যানজটের সৃস্টি হয়।

এসময় এক পথচারীর মোটরসাইকেল নিয়ে তাতে অগ্নিসংযোগ করে এবং গাড়িতেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এসময় শিল্পপুলিশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস সেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং ওই পথে যানবাহন চলাচল শুরু করে।