গারো পাহাড়ে মাল্টা ও লেবু চাষ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৫৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০১৮ | আপডেট: ৯:৫৬:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০১৮

শাহরিয়ার মিল্টন,,শেরপুর প্রতিনিধি : ভারত সীমান্তঘেঁষা শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ি অঞ্চলের মাটি সুনিষ্কাশিত, উর্বর, মধ্যম থেকে দোঁ-আশ এবং এখানকার আবহাওয়া শুষ্ক ও উষ্ণ হওয়ায় এখানে সাইট্রাস (লেবু) জাতীয় ফল চাষের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। আর এ জাতীয় ফল বিশেষ করে লেবু ও মাল্টা চাষ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় ও একইসঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। গত তিন বছর আগে উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের সাইট্রাস ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় লেবু ও মাল্টা চাষ করে সফলতা পেয়েছেন উদ্যোক্তা আব্দুল বাতেন। তিনি হলদীয়া গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে। পেশায় সরকারি গাড়ি চালক।





আরো নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হলে এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া গেলে এ অঞ্চলে লেবু ও মাল্টা চাষে বিপ্লব ঘটবে। একই সঙ্গে এ অঞ্চল অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধ হওয়ার নতুন দ্বার উন্মোচন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্যোক্তা আব্দুল বাতেন জানান, সীমান্তে হাতির উপদ্রব থাকায় তার সাড়ে ৭ একর জমি পতিত পড়ে থাকত। গত চার বছর আগে কৃষি বিভাগের লোকজনের পরার্মশে দুই একর জমিতে সাইট্রাস ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় বøক প্রদর্শনীর মাধ্যমে ও তার নিজ উদ্যোগে আরও আড়াই একর জমিতে লেবু জাতীয় ফলের চাষ শুরু করে। বর্তমানে তার বাগানে ১ হাজার ৩০০ সীডলেস ও ৫০০ কাগজী লেবু, ১৬০ মাল্টা, ২০ কমলা, ২০ জাম্বুরা ও ৬০টি আম গাছ রয়েছে। বাগান দেখার জন্য ২ জন শ্রমিক রয়েছে বছর চুক্তিতে। এছাড়া দৈনিক মুজুরি ভিত্তিতে ৫জন শ্রমিক কাজ করে । এ পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে প্রায় ৯ লাখ টাকা। শুধু লেবু বিক্রি করেছেন সাড়ে ১৮ লাখ টাকা। এ বছরই প্রথম প্রায় ৭০ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রির আশা ব্যক্ত করেছেন এ উদ্যোক্তা।





সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিটি গাছে থরে থরে সাজানো সবুজ রঙের প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি মাল্টা। লেবু গাছগুলোতে পর্যাপ্ত লেবু ধরে আছে। বাগনে ৫ জন শ্রমিক নিড়ানি, পানি দেওয়াসহ অন্যান্য পরিচর্যা করছেন। তেমন কোনো রোগবালাই নেই। বাগানের সঙ্গেই রয়েছে মুরগীর খামার।





উপজেলা কৃষি স¤প্রসারন কর্ককর্তা ফয়জুন নাহার নিপার দেওয়া তথ্য মতে, উপজেলায় ১৮ হেক্টর জমিতে সাইট্রাস ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় ৬০টি বøক প্রদর্শনীর মাধ্যমে ১৮ হেক্টর জমিতে লেবু জাতীয় ফলের চাষ হয়েছে। এরমধ্যে ৯ হেক্টর জমিতে মাল্টা, ৪ হেক্টর জমিতে বাতাবি ও সীডলেস লেবু এবং বাকি অন্য জমিতে জাম্বুরা, কমলা চাষ হয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ৭০শতাংশ গাছে ফলন এসেছে। এ বছর প্রায় ৫০ মেট্রিক টন মাল্টা উৎপাদন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছের এ কর্মকর্তা।

এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, এ এলাকার আবহাওয়া ও জলবায়ু সাইট্রাস লেবু জাতীয় চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সাইট্রাস ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের প্রশিক্ষণসহ বিনামূল্যে বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এ জাতীয় ফল বিশেষ করে লেবু ও মাল্টা চাষ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় ও একইসঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব।