গাড়ি-মোটরসাইকেল চালালেই মুখে কালি মাখিয়ে দিচ্ছে

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:০০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০১৮ | আপডেট: ২:০০:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০১৮

রোববার সকাল থেকে শুধু এ প্রাইভেটকার চালক নয় তার মতো আরও প্রাইভেটকার চালক, সিএনজি চালক, মোটরসাইকেল চালকের মুখে পোড়া মোবিল মাখিয়ে দেন শ্রমিকরা। শুধু পোড়া মোবিল নয়, অনেক স্থানে চালকদের যানবাহন চালানোর দায়ে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে।

রাজধানীতে প্রাইভেটকার চালিয়ে যাচ্ছেন একজন প্রাইভেটকার চালক। দেখেই মনে হচ্ছে মুখে ক্রিমের বদলে তিনি ভুলে কালি মেখে বের হয়েছেন। পুরো মুখে কালো চাপ। কিন্তু তিনি নিজে এ কালি মাখেননি। গাড়ি চালানোর দায়ে পরিবহন শ্রমিকরা পোড়া মোবিল মাখিয়ে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন।

মহাখালীতে আব্দুর রহমান নামে এক মোটরসাইকেল চালকের মুখে কালি লাগিয়ে রীতিমত উল্লাস করছিলেন সাধারণ শ্রমিকরা। ভদ্র লোক ক্ষোভে কান্না করে বলেন, পরিবহন শ্রমিকরা কর্মবিরতি করছে। কিন্তু আমি তো শ্রমিক নয়। আমি নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি চালাচ্ছি।

আমার মুখে কেন কালি দেয়া হলো। এটা কি রঙ্গ। যে যা মন চাচ্ছে তাই করছে। এ দেশে দিনকে দিন মানুষ জানমালের নিরাপত্তার পাশাপাশি দেখছি আত্মসম্মান ছিনিয়ে নেয়ার প্রতিযোগিতা চলছে। এরা কি আসলে মানুষ?

এমন এক ভুক্তভোগী বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের কাছে সাধারণ জনগণ জিম্মি, চলছে না কোনও গণপরিবহন। এর মধ্য ব্যক্তিগত গাড়ি থামিয়ে চালকদের মুখে পোড়া মবিলের কালি মাখিয়ে দেয়া হচ্ছে। আমরা এ কোন দেশে বাস করি?

সড়ক পরিবহন আইনের কয়েকটি ধারা বাতিলসহ ৮ দফা দাবিতে সারাদেশে শ্রমিকদের ডাকা টানা ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী শুরু হওয়া এই কর্মবিরতিতে রাস্তাঘাটে গণপরিবহন না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দেশের সাধারণ মানুষ। শুধু তাই নয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা বিপদে পড়েছেন যানবাহন না পেয়ে।

এদিকে রোববার সকালে রাজধানীর মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, জামিন অযোগ্য আইন বাতিল না করা পর্যন্ত গাড়ি চালাবে না চালকরা।

সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যদি না বসে তাহলে এ কর্মসূচি আরও দীর্ঘায়ত করবে। ৪৮ ঘণ্টা শেষে ৯৬ ঘণ্টার ধর্মঘট চলবে। এরপর লাগাতর কর্মবিরতিতে যাবে।

এছাড়া রোববার সকালে রাজধানীর সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু ভবনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এ মুহূর্তে পরিবর্তনের সুযোগ নেই। পরিবহন শ্রমিকদের দাবির বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পরবর্তী সংসদের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।