গোলাপগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ দখলঃশিক্ষার্থীদের স্কুলে আসা যাওয়ার রাস্তা বন্ধ

থানায় অভিযোগ দায়ের

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:১০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০১৮ | আপডেট: ১২:১০:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০১৮
ছবিঃবাংলাদেশ টুডে

জাহেদুর রহমান জাহেদ, গোলাপগঞ্জ ঃ গোলাপগঞ্জের ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের মুকিতলা কৈলাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ নিয়ে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়াতে পারে এলাকাবাসী বলে জানান এলাকার অনেকে । বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সহ সভাপতি এনাম উদ্দিন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় মুকিতলা গ্রামের আবু তালিবের ছেলে মুহিবুর রহমান (৩৫), মেয়ে রায়না বেগম (৫০), শাহনাজ বেগম (৪৫), শেফা বেগম (৪২), পারভিন বেগম (৪০), মকবুল হোসেন (৪০) পিতা অজ্ঞাত কে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, ১৮বছর পূর্বে মুকিতলা গ্রামের আলহাজ¦ আলতাব আলী তার ভাই আবু তালেবের কাছ থেকে ভূমি ক্রয় করে মুকিতলা গ্রামের কোমল মতি শিশুদের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষার আলো ছড়ি দিতে ২০০০সালে মুকিতলা কৈলাশ নামে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে গ্রামের সাধারণ শিশুরা প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পাওয়ায় এলাকায় তিনি একজন শিক্ষানুরাগী হিসাবে সবার কাছে বেশ পরিচিত হয়ে ওঠেন। তিনি ২০০২সালের ৩রা জানুয়ারী ৩৩শতক ভূমি বিদ্যালয়ের নামে রেজিষ্ট্রি করে দেন। যার ফলশ্রæতিতে ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের স্বীকৃতি লাভ করে। বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের স্বীকৃতি লাভ করলে তিনি এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০১৭ সালের ১৫জানুয়ারী আরও ২০শতক ভূমি বিদ্যালয়ের নামে রেজিষ্ট্রি করে দেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ে মোট ১৩৮জন শিক্ষার্থী সুনামের সহিত পাঠগ্রহণ করছে। চলতি বছরের ১৪ অক্টোবর দুপুরে উল্লেখিত বিবাদীগণ জোরপূর্বক বিদ্যালয়ের দুই পার্শে আকস্মিক বাঁশের বেড়া দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান রাস্তা বন্ধ করে দেন এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে বিদ্যালয়ে আসতে নিষেধ করেন। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আশংকা করা হচ্ছে, এর সূত্র ধরে যেকোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে এলাকাবাসী। তাছাড়া সামনে সমাপনী পরীক্ষা সহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা রয়েছে। অভিভাবকরা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক অভিভাবকরা জানান ১৮ নভেম্বর থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা। অনেক শিক্ষার্থীরা ভয়ে বিদ্যালয়ে আসতে চায় না। আবার কেউ কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ের পাশের শিমক্ষেতের ভিতর দিয়ে, কখনো স্কুলের পাশের জঙ্গলের ভেতর দিয়ে আতঙ্ক নিয়ে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করছে। বিঘিœত হচ্ছে শিশুর মৌলিক অধিকার শিক্ষা।

বিদ্যালয়ের ভূমিদাতা ও মুকিতলা কৈলাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আলহাজ¦ আলতাব আলী বলেন, আমি এলাকার শিশুকিশোরদের আলোকিত জীবন গড়ার লক্ষ্যে সরকারের নামে ভূমি দান করেছি । আমার ছোট ভাই আমাকে সমাজে হেয় করতে যে কাজ করেছে, এগুলো নিন্দনীয়। এখন সরকারই তার প্রতিষ্টানের জায়গা উদ্ধার করবে। তাছাড়া সে আমার কাছে জায়গা পেলে আমাকে বলতো। তাই বলে আমার খরিদা জায়গা দখল বিদ্যালয়ের নামে দান করেছি সেটি কিভাবে সে দাবী করে।

ভূমি দখলদার একই গ্রামের আবু তালিবের ছেলে মুহিবুর রহমানের সাথে স্কুলের জায়গায় বেড়া দেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান এখানে আমার পিতার হক রয়েছে। কিন্তু কোন কাগজ নেই, আমি আমার জায়গা উদ্ধার করতে গেলে গোলাপগঞ্জ থানার ওসি সহ এলাকার গন্যমান্যদের মধ্যস্ততায় মিমাংসার প্রস্তাব দিলে আমি রাজি হই। তারা, আমাকে ২লক্ষ টাকা ও ২২শতক ভূমি দেয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত না দেয়ায় স্কুলের সীমানায় বেড়া দিতে বাধ্য হয়েছি।

ছবিঃবাংলাদেশ টুডে

এ নিয়ে আপনার কোন মামলা আছে কি? প্রশ্ন করলে মুহিবুর রহমান বলেন- না। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রাস্তা বন্ধ করা কি ঠিক হয়েছে? বললে তিনি ইতোস্থতা বোধ করেন। শিক্ষার্থীদের রাস্তা খুলে দিতেও তার সম্মতি প্রকাশ করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রাজু আহমদের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, মুহিব এটি ঠিক করেননি। রেকর্ডিয় মালিক না হওয়া সত্তে¡ও কিসের বলে সে ভূমির মালিকানা দাবী করে আমার বোধগম্য নয়।

ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এস এম আব্দুর রহিম বলেন, এ ব্যাপারে আমার জানা নেই।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, প্রনান্ত কুমার পাল বলেন বিষয়টি আমি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রহমান বলেন , এব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে আলাপ করলে বিস্তারিত জানতে পারবেন। তবে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল হামিদ সরকারের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, এখানে জমিজমা সক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের রয়েছে। স্থানীয় ভাবে মিমাংসা করতে বহুবার চেষ্টা করা হলেও সমাধান হয়নি। তাছাড়া দুই ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে আবু তালিবের ছেলে মুহিব বিদ্যালয়ের সীমানায় বেড়া দিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ করেছে। আমরা এ ব্যাপারে আইনী পদক্ষেপ নিব।

গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম ফজলুল হক শিবলী বলেন বিষয়টি তাদের পারিবারিক। দুই ভাইয়ের পারিবারিক দ্বন্ধের ফলে দুই দিকে অবস্থান থাকায় জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। আমি বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাব উদ্দিন ভাইকে নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

উল্লেখ্য, ২০১৭সালের ২রা মে উপজেলা নির্বার্হী অফিসার বরাবর বিদ্যালয়ের সভাপতি আলহাজ আলতাব আলী একটি লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। এর প্রেক্ষিতে (তৎকালীন) উপজেলা নির্বার্হী অফিসার মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে (তৎকালীন) সহকারি কমিশনার (ভূমি) মামুনুর রহমানকে নির্দেশ দিলেও বিষয়টি স্থায়ীভাবে কোন নিস্পত্তি পায়নি। বর্তমানে এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা আতঙ্কে রয়েছেন।