গ্যাস্ট্রোলিভার রোগীর জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল

ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ডাইজেস্টিভ ডিজিজেস রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটাল

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:১৭ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮ | আপডেট: ৬:১৭:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮

বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও পরিপাকতন্ত্র, লিভার ও প্যানক্রিয়াসজনিত গ্যাস্ট্রো ইন্টেসটাইনাল রোগের প্রকোপ লক্ষণীয়। জলবায়ু ও পরিবেশগত বিভিন্ন কারণে বর্তমানে গ্যাস্ট্রো ইন্টেসটাইনালজনিত রোগীর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। দেশে এ ধরনের রোগী সবচেয়ে বেশি।

এসব রোগকে পুঁজি করে বেশির ভাগ ওষুধ কোম্পনি বাজারজাত করছে বিভিন্ন নামের ওষুধ। তবে রোগী আর ওষুধের আধিক্য থাকলেও নেই বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

সামগ্রিক বিষয় বিবেচনায় এনে পরিপাকতন্ত্র, লিভার এবং প্যানক্রিয়াসজনিত গ্যাস্ট্রো ইন্টেসটিইনাল রোগে আক্রান্ত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে রাজধানীর মহাখালীতে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডাইজেস্টিভ ডিজিজেস রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটাল নির্মাণ করা হয়েছে।

দেশের কয়েকটি মেডিকেল কলেজে পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিভিন্ন হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা, আন্তঃবিভাগে ভর্তি রোগীদের এক-তৃতীয়াংশই পরিপাকতন্ত্র ও লিভারের রোগে আক্রান্ত।

সরকার দেশের পুরনো ১৪টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ বিভাগে পদ সৃষ্টি করে জনগণের পরিপাকতন্ত্রবিষয়ক রোগের স্বাস্থ্যসেবা বিস্তৃত করেছে। তবে ক্রমবর্ধমান রোগী ও আধুনিক যন্ত্রপাতির সীমাবদ্ধতার কারণে বিদ্যমান চিকিৎসার সুযোগ প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।

জানা গেছে, বিদ্যমান চিকিৎসা ব্যবস্থায় দেশের প্রয়োজনের তুলনায় পরিপাকতন্ত্র এবং লিভারের রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যাও অনেক কম। উন্নত বিশ্বে যেখানে প্রতি ১০ হাজার জনগোষ্ঠীর জন্য কমপক্ষে একজন গ্যাস্ট্রো ইন্টেসটাইনাল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন, সেখানে বাংলাদেশে প্রতি ৩০ লাখ লোকের জন্য রয়েছেন একজন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিএসএমএমইউ এবং বারডেম হাসপাতালে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোর্স চালু রয়েছে। সম্প্রতি দুটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সীমিত সংখ্যক আসনে এ বিষয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অন্যান্য ১১টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ বিভাগ স্থাপন এবং চিকিৎসা দেয়ার জন্য পদ সৃষ্টি হলেও জনবল সংকটের কারণে একাডেমিক কোর্স চালু করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট রোগীদের সেবার পাশাপাশি দেশে পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ মেডিকেল এবং সার্জিক্যাল গ্যাস্ট্রো এন্টারোলজিস্ট তৈরি এবং গ্যাস্ট্রো এন্টারোলজি বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হবে এ প্রতিষ্ঠানে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত আগ্রহে এ হাসপাতাল নির্মিত হচ্ছে। হাসপাতালের কার্যক্রম চালু হলে এ সংক্রান্ত রোগীরা ন্যূনতম ব্যয়ে বিশ্বমানের সেবা পাবেন। তাছাড়া হাসপাতালে যেন দালালের দৌরাত্ম্য না থাকে, সেজন্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হবে।

শিগগিরই হাসপাতলটি উদ্বোধন করা হবে বলেও জানান তিনি। সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজধানীর মহাখালীতে (বক্ষব্যাধি হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায়) ২ একর জমির ওপর ১০ তলা মূল হাসপাতাল ভবনসহ আরও ৪টি ৫ তলা ভবন নিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ডাইজেস্টিভ ডিজিজেস রির্সাচ অ্যান্ড হাসপাতালের নির্মাণকাজ সমাপ্তির পর্যায়ে রয়েছে। এরই মধ্যে আসবাবপত্র এবং যন্ত্রপাতি ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ চলছে। এরই মধ্যে হাসপাতালের জন্য চিকিৎসক, নার্সসহ ৩৬৩ জন জনবল নিয়াগের অনুমোদন পাওয়া গেছে।

হাসপাতাল প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক ডা. মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, হাসপাতালটিতে ইমার্জেন্সি এন্ডোসকপিক ইন্টারভেনশন, ইমার্জেন্সি সার্জিক্যাল কেয়ার এবং ১২ বেডের ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডসহ গ্যাস্ট্রো ইনটেসটিনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিসের সুবিধা থাকবে। এছাড়া বহির্বিভাগে পরিপাকতন্ত্র, লিভার এবং প্যানক্রিয়াসজনিত গ্যাস্ট্রো ইন্টেসটিনাল রোগগুলোর মেডিকেল এবং সার্জিক্যাল কনসালটেশন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

রোগ নির্ণয়ে রোগীদের সুবিধার্থে এখানে থাকবে আধুনিক এআরই ব্যবস্থা ১৬০ স্লাইস সিটি স্ক্যানসহ অন্যান্য গ্যাস্ট্রো ইন্টেসটিনাল ইমেজিং ব্যবস্থাসহ রোগ নির্ণয়ে অন্যান্য আধুনিক যন্ত্রপাতি সুসজ্জিত ল্যাব।

তিনি বলেন, হাসপাতালের চতুর্থ তলায় রয়েছে প্রস্তুতি কক্ষ, চারটি প্রসিডিউর কক্ষ, রিকভারি কক্ষ এবং সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি সংবলিত এন্ডোসকপি স্যুট, এন্ডোসকপি ট্রেনিং ল্যাব। হাসপাতালে থাকবে ৪টি অপারেশন থিয়েটার, ৮ বেডের আইসিইউ, ১২ বেডের এইচডিইউ, ১২টি ওয়ার্ড, ৩০টি কেবিন, মৃতদেহ সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও বেজমেন্ট পার্কিং সুবিধা। এছাড়া পাঁচতলা ভবনগুলোয় পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট হোস্টেল, ডক্টরস ডরমেটরি, নার্সেস হোস্টেল ও ইমার্জেন্সি স্টাফ কোয়াটার করা হয়েছে।

সামগ্রিক বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ বলেন, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ডাইজেস্টিভ ডিজিজেস রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটাল প্রকল্পটি শেষের পথে। ২১৬ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এ প্রকল্পে কাজ শুরু হয় ২০১১ সালের অক্টোবরে এবং এটি হস্তান্তর করা হবে ২০১৯ সালের জুনে।

তিনি বলেন, এ হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হলে দেশের মানুষ স্বল্প ব্যয়ে পরিপাকতন্ত্র, লিভার এবং প্যানক্রিয়াস সংক্রান্ত জটিল রোগগুলোর উন্নত চিকিৎসা পাবে। পাশাপাশি এখানে স্নাতকোত্তর কোর্স চালু করার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরি করা সম্ভব হবে।

এছাড়া এসব রোগ সংক্রান্ত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা মাধ্যমে চিকিৎসক, টেকনোলজিস্ট, নার্স পর্যায়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়ন, যা সমগ্র বাংলাদেশে গ্যাস্ট্রো ইন্টেসটিনাল বিভিন্ন রোগের যথাযথ সেবা প্রদানে ভূমিকা রাখবে।সুত্র: যুগান্তর