গ্রামীণফোনের এক বছরে কলড্রপ ১০০ কোটির বেশি

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:০৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০১৮ | আপডেট: ১২:০৬:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০১৮
সংগৃহীত

গতবছরের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত এক বছরে অপারেটরটির কলড্রপ হয়েছে ১০৩ কোটি ৪৩ লাখ বার। এই সময়ে গ্রাহক সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রবির কলড্রপ হয়েছে ৭৬ কোটি ১৮ লাখ বার।

সক্রিয় সংযোগ বিবেচনায় গ্রামীণফোনের রয়েছে সাত কোটি সাত লাখ সংযোগ আর রবির চার কোটি ৬১ লাখ সংযোগ। অবশ্য গ্রাহক সংখ্যার তুলনায় জিপি-রবির কলড্রপে খুব একটা পার্থক্য নেই। মোবাইল অপারেটরগুলোর সেবা ও নেটওয়ার্কের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে প্রতিনিয়তই। কাক্সিক্ষত সেবা না পাওয়ায় প্রতিদিনই অভিযোগ জমা পড়ছে টেলিযোগায়োগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (বিটিআরসি) এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে।

এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন গ্রাহকদের অনেকেই। কলড্রপ নিয়ে সংসদেও ক্ষোভ জানিয়েছেন একজন মন্ত্রী। সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করার পর কলড্রপ নিয়ে একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে বিটিআরসি। কমিশনের দেয়া তথ্য অনুযায়ি কলড্রপের শীর্ষে রয়েছে গ্রামীণফোন।

প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ি গ্রামীণফোন ও রবির পর রয়েছে বাংলালিংক। বাংলালিংকের কলড্রপ হয়েছে ৩৬ কোটি ৫৪ লাখ আর টেলিটকের আনুমানিক ৬ কোটি। বাংলালিংকের সক্রিয় সংযোগ তিন কোটি ৩৪ লাখ এবং রাষ্ট্রীয়াত্ত¡ মোবাইল অপারেটর টেলিটকের রয়েছে ৩৮ লাখ ৭৩ হাজার সংযোগ।

পরিসংখ্যানে আরও বলা হয়, দুই বা তার অধিক কলে ড্রপ হয়েছে গ্রামীণফোনের ২৭ কোটি ৭৭ লাখ, রবির ২৪ কোটি ৪৭ লাখ, বাংলালিংকের ১৭ কোটি ১৪ লাখ বার। এর বিপরীতে মিনিট ফেরত দিয়েছে গ্রামীণফোন ১০ কোটি ৩০ লাখ মিনিট, রবি ৬ কোটি ৮২ লাখ, বাংলালিংক ৪ কোটি ৯৪ লাখ মিনিট। তবে এক্ষেত্রে টেলিটকের কোন কলড্রপ হয়নি।

গত রোববার কলড্রপ নিয়ে বিরক্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দেয়া বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, গ্রামীণফোনে একবার কথা শেষ করতে চার, পাঁচবার কল করতে হয়। এটি হতে পারে না। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।

কলড্রপের ঘটনা যাতে না ঘটে বাণিজ্যমন্ত্রী সে জন্য টেলিযোগাযোগমন্ত্রীকে গ্রামীণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান। মন্ত্রী বলেন, আমরা যারা গ্রামীণফোন ব্যবহার করি, প্রত্যেকটি কলে কলড্রপ হয়। একেকটি কলে ৩, ৪, ৫ বার ড্রপ হয়। এ জন্য বারবার কল করতে হয়।

এটি কেমন ধরনের কথা! আমরা গুরুত্বপূর্ণ একটি কল করছি, হঠাৎ কলটি ড্রপ করল। বিদেশে কল করছি তা ড্রপ করল। এর আগে ২০১৫ সালের অক্টোবরে গ্রামীণফোনের কলড্রপ নিয়ে ফেসবুকে অসন্তোষ জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

এদিকে কলড্রপ সমস্যার বিষয়ে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বিটিআরসি। গতকাল কমিশনের পক্ষ থেকে অপারেটরগুলোর কাছে দেয়া এক চিঠিতে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে নেটওয়ার্কে সামগ্রিক প্রকৃত কলড্রপের অবস্থা এবং এ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

বিটিআরসির চিঠিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল অপারেটরদের কলড্রপ সংক্রান্ত অভিযোগ অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে চলমান জাতীয় সংসদেও আলাচনা হয়েছে। দিন দিন টেলিযোগাযোগ সেবার মান নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সেবার মান নিয়ন্ত্রণ বর্তমানে বিটিআরসির একটি অগ্রাধিকারযোগ্য কার্যক্রম। বিটিআরসি ইতোমধ্যে ড্রাইভ টেস্টের মাধ্যমে বিভিন্ন অপারেটরের সেবার মান নিয়মিত পরিমাপ করছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, গ্রাহক স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কলড্রপের পরিমাণ বিটিআরসির নির্ধারিত সীমা ২ শতাংশের মধ্যে থাকা আবশ্যক। অপারেটরদের দেয়া মাসিক প্রতিবেদনে কলড্রপ নির্ধারিত সীমার মধ্যে দাবি করা হলেও গ্রাহক পর্যায়ে অভিযোগ অনেক বেশি। এছাড়া কোন কোন অপারেটরের নেটওয়ার্কে একটি কলে ৪ থেকে ৫ বার কলড্রপ হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। যা বাস্তব সম্মত নয়।