গ্রেনেড হামলার রায়কে ঘিরে নাশকতা ঠেকাতে মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৫০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০১৮ | আপডেট: ৭:৫০:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০১৮
ফাইল ছবি

১০ অক্টোবর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায়কে ঘিরে নাশকতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ। দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের এ নির্দেশ দিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতারা। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে, আলোচিত এই মামলার রায়ের আগে ও পরে সারাদেশে নাশকতার চেষ্টা করতে পারে বিএনপি। তাই নাশকতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীরাও সতর্ক অবস্থানে থাকবে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, কোন ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তা কঠোর হস্তে দমনসহ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করতে হবে।

এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ২১ আগস্ট মামলার রায়ের দিন কোনো নাশকতা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ১০ অক্টোবরের রায়কে ঘিরে নাশকতা করলে জনগণ দাঁত ভাঙা জবাব দিবে। ২০১৪ সালে নির্বাচনের আগে ও পরে জালাও পোড়াও করেছে বিএনপিও তার সাপ্রদায়িক দোসররা। আবারো যদি তারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে সহিংসতা, নাশকতা করতে চায় তাহলে জনগণের নিরাপত্তার জন্য সরকার বসে থাকবে না।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘এলাকায় প্রস্তুত থাকবেন, অপশক্তি যেন মাঠে নামতে না পারে। ওদের মাঠে প্রতিহত করবেন, রাস্তায় প্রতিহত করবেন।’

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, আগামী ১০ অক্টোবর গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণা হবে। তাই এ নিয়ে বিএনপি ষড়যন্ত্র করতে পারে। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্যই ওই নারকীয় গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটিয়েছিল। এ কারণে সরকারের পক্ষ থেকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।

সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন অভিযোগ ভিত্তহীন বলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি কখনো অশান্তি, সংঘাত ও বিশৃঙ্খলায় বিশ্বাস করে না। আমরা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বাইরে যাই না। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে সরকার অন্যায়ভাবে সাজা দিলে জ্যেষ্ঠ নেতারা পরিস্থিতি বিবেচনা করে কর্মসূচি দিবেন।

প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর পল্টনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশ চলাকালে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২২ জন মারা যান। গ্রেনেড হামলায় তৎকালীর বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।