গ্রেনেড হামলা: চিন্তিত নয় বিএনপি, রায়ের পর কর্মসূচি ঘোষণা

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৩২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০১৮ | আপডেট: ৮:৩২:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০১৮
ফাইল ছবি

বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণা নিয়ে আশঙ্কা থাকলেও চিন্তিত নয় বিএনপি। মামলার সম্ভাব্য রায় নিয়ে সংযত প্রতিক্রিয়া দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। কেননা বিএনপির হাইকমান্ড মনে করে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সিনিয়র নেতাদের এই মামলায় রাজনৈতিক কারণেই জড়ানো হয়েছে। ফলে রায় ‘ফরমায়েশি’ হবে বলে সিনিয়র নেতারা অভিযোগ করে আসছেন বেশ কিছুদিন ধরে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণার পর আনুষ্ঠাকিভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং কর্মসূচি ঘোষণা করবে বিএনপি। কারণ এ মুহূর্তে আসন্ন নির্বাচন ঘিরে আন্দোলন ও নির্বাচনী দাবি আদায় করার লক্ষ্যেই সতর্কভাবে এগোচ্ছে দলটি। সুতরাং নতুন কোনো ইস্যুতে হঠকারী সিদ্ধান্ত নিতে চায় না বিএনপির হাইকমান্ড। খোঁজ নিয়ে এমনটিই জানা গেছে।

জানা যায়, ২১ আগস্ট মামলার রায় বিপক্ষে গেলেও কঠোর কোনো কর্মসূচিতে যাবে না দলটি। সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল বা প্রতিবাদ সমাবেশ ডেকে প্রতিক্রিয়া দেখানো হতে পারে। খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ার পর নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার যে নির্দেশনা ছিল, এই রায় নেতিবাচক হলে সেরকমই নির্দেশনা থাকবে বিএনপির।

দলটির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, গতকাল মঙ্গলবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে দেয়া এক ভাষণে বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখে কারো ফাঁদে পা না দিয়ে ধৈর্য ও সাহসের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। স্বাভাবিক কারণেই যেকোনো মানবিক ইস্যুতে দেশের মানুষ রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা দেখতে চায় না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

একুশে আগস্ট মামলার রায় ঘোষণা হবে আজ। বিএনপির দাবি, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যই আওয়ামী লীগ ২১ আগস্ট বোমা হামলার মামলা নিয়ে রাজনীতি করছে। তথাকথিত এক-এগারোর মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দীন সরকারের সময় এ মামলার চার্জশিটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম ছিল না। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাদের দলীয় লোক কাহার আকন্দকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়। তার আগেই বিএনপি সরকারের সময় কাহার আকন্দ পুলিশ থেকে অবসরে গিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন, এমনকি ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করেছেন। তাকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়ার উদ্দেশ্যই ছিল এ মামলায় তারেক রহমানকে জড়ানো। পরে ২০১১ সালে তারেক রহমানের নামসহ আরো বিএনপির সিনিয়র আরো কয়েকজন নেতার নাম সম্পূরক চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ইতোমধ্যে বিএনপির সিনিয়র আইনজীবীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে এ মামলায় আরেকটি নগ্ন উদাহরণ তৈরি হতে পারে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রবীণ আইনবিদ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনার পরপরই বিএনপির সরকার মামলা দায়ের করে এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারকাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করে। কিন্তু এ প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের অসহযোগিতা এবং তাদের কিছু ষড়যন্ত্রের কারণে তা শেষ করা সম্ভব হয়নি। ২০০৮ সালে অবৈধ সরকারও যে চার্জশিট দাখিল করেছিল সেখানে বিএনপি এবং এর নেতাকর্মীকে যুক্ত করা হয়নি। ২০০৮ সালে চার্জশিট দাখিল করার আগে মুফতি হান্নান যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছিলেন সেখানেও তারেক রহমান কিংবা ওই সময়ের প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তার নাম বলেনি। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বক্তব্য-বিবৃতির মাধ্যমে তারেক রহমান ও বিএনপিকে এই মামলায় জড়ানোর জন্য তাদের নীলনকশার ইঙ্গিত দিতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মুফতি হান্নানকে দ্বিতীয় দফা দীর্ঘদিন রিমান্ডে রেখে নির্যাতন করে তথাকথিত দ্বিতীয় স্বীকারোক্তিতে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয়বার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী নেয়ার বিরল ঘটনা।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য আদালতকে যেভাবে ব্যবহার করছে তার আরেকটি নগ্ন উদাহরণ ১০ অক্টোবরও হবে বলে আমরা আশঙ্কা প্রকাশ করছি।

এ মামলার শুরু থেকে অর্থাৎ ২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত তারেক রহমানের প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, এ মামলায় মোট ২২৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন, একজন সাক্ষীও বলেননি, তারেক রহমানসহ বিএনপির নেতারা এ ঘটনায় সম্পৃক্ত। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য এ ধরনের মামলা সাজানো হয়েছে। আইনজীবী হিসেবে বলতে চাই, এ মামলায় যদি সাজা দেয়া হয় তা হবে ফরমায়েশি রায়, যা হবে ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ২১ আগস্ট মামলা প্রসঙ্গে বলেন, ২০০৮ সালের ১১ জুন বর্তমান আইজিপি ও সিআইডির তৎকালীন অতিরিক্ত আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারীর তদন্ত প্রতিবেদনে কোথাও তারেক রহমান বা বিএনপির কারো নাম নেই। তার রিপোর্টে বলা হয়েছে, হরকাতুল জিহাদ, মুফতি হান্নানই পরিকল্পনাকারী, মাওলানা তাজউদ্দিন গ্রেনেড সরবরাহকারী, হামলার পরিকল্পনা হয় ১৯ আগস্ট। তাহলে নিজেদের আইজিপির প্রতিবেদনকেও অগ্রাহ্য করা দূরভিসন্ধিমূলক।

এদিকে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় রায়ের পর কর্মসূচি দেয়ার চিন্তা রয়েছে বিএনপির। গতকাল বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, রায় কী হয় তারপরেই আমরা আমাদের বক্তব্য ও মতামত জানাবো। তবে আমরা যেটাই করি, সেটা শান্তিপূর্ণই হবে। আমরা এমন কোনো ধরনের কাজ করব না সেটাতে জনগণ কষ্ট পায়। আমি আপনাদের মাধ্যমে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থেকে আগামী যেকোনো কর্মসূচি পালন করার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। কারণ অতীতের মতো বর্তমান অবৈধ সরকার নানাভাবে নিজেরাই নাশকতা সৃষ্টি করে উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর মতো পরিকল্পনা করে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর দায় চাপাতে পারে।