চাইলেন বিচার, পেলেন ওসির চড় ও হুমকি

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮ | আপডেট: ১০:১৩:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮

টিবিটি দেশজুড়েঃ থানায় বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন এক ব্যক্তি। মারধরের কারণে চার দিন জ্বরে ভুগতে হয়েছে বলে দাবি ওই ব্যক্তির। এ ঘটনার বিচার চেয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে ওসির শাস্তিও দাবি করা হয়েছে।

মারধর করার অভিযোগটি কুমিল্লার বরুড়া থানার ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে। আর মারধরের শিকার ব্যক্তির নাম আবু বকর ছিদ্দিক।

ঘটনার তদন্ত ও ওসির শাস্তির দাবিতে ৬ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার দুপুরে আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারীর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি সংবাদমাধ্যমে নাম প্রকাশ করতে চাননি।

অভিযোগকারী ওই ব্যক্তি বলেন, ‘সমাজের একটা সমস্যা নিয়ে আমরা এসআই অলিউল ইসলামসহ বসছিলাম। সেখানে আমরা সমাজের পক্ষে ১৬ জন লোক উপস্থিত ছিলাম। থানায় ওসির সাথে বৈঠক শেষে আসার আগ মুহুর্তে ওসি সাহেব একজন পুলিশকে দিয়ে আবু বকর ছিদ্দিককে ডেকে নেন এবং তার রুমে নিয়ে আবু বকরকে অন্য একটি অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন এবং গালিগালাজ ও মারধর করেন।

এটি আমরা জানালা দিয়ে বাইরে থেকে দেখেছি। আমরা মনে করি, ওসি এ অপমান শুধু আবু বকরকে করেননি, তিনি পুরো সমাজবাসীর গায়ে হাত তুলেছেন। এ জন্য সঠিক বিচার চেয়ে আমরা আইজি কমপ্লেইন সেলে অভিযোগ করেছি।’

অভিযোগে বলা হয়, ২৮ আগস্ট বরুড়া থানায় সামাজিক একটা সমস্যা নিয়ে মীমাংসার জন্য দুই পক্ষ পুলিশের এসআই অলিউল ইসলামসহ বসেন। উভয়পক্ষ আলোচনা করে একটা সমাধানের পথেও যান। বৈঠক শেষে বের হয়ে চলে যাওয়ার সময় আবু বকর সিদ্দিককে ডেকে পাঠান ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদ।

ওসির কক্ষে গেলে দরজা বন্ধ করে আবু বকর ছিদ্দিকের করা আগের একটা অভিযোগ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওসি গালিগালাজ করেন, আবু বকরের চুল ধরে চড়-থাপ্পর মারতে থাকেন। ওই সময় আবু বকরকে মাদক ও অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ারও হুমকি দেন ওসি।

আবু বকরকে মারধরের এমন দৃশ্য ওসির কক্ষের বাইরে থাকা নলুয়া চাঁদপুরের ১৬ জন লোক দেখেছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষী হিসেবে নাম-ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও স্বাক্ষরও অভিযোগের সঙ্গে জমা দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগপত্র।
ভুক্তভোগী ব্যক্তির পক্ষে বিচার দাবি করে আইজিপি বরাবর দেওয়া অভিযোগপত্র।
মারধরের শিকার আবু বকর বলেন, ‘আমি থানায় একটা অভিযোগ দিছিলাম। সেটা জমি সংক্রান্ত। উনি (থানার ওসি) এক এসআইরে (এসআই অলিউল ইসলাম) দায়িত্ব দিছিল। হেই এসআই (অলিউল ইসলাম) আইস্যা বসছিল আমাদের সাথে। কিন্তু হেই (জায়গা দখলকারী) দিবার চায়া আবার শালিসে দিবার চায় না। পরে আর শালিস হয় নাই।

আমার মতোই একটা অভিযোগ দিছিল দেলোয়ার হোসেন বেপারীও। হের অভিযোগটা ছিল সরকারি হালট (জমি) দখল করে রাখা। তার অভিযোগও আবার সেই এসআই (এসআই অলিউল ইসলাম) দেখছিল। হেরেও (দেলোয়ার হোসেন বেপারী) ওসি থানায় ডাকছিল।’

২৮ আগস্ট সন্ধ্যার দিকে সবাই থানায় যান বলে জানান আবু বকর ছিদ্দিক। তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যায় আমরা সবাই গেলাম। ওসি তাদের সাথে কথা কইল। পরে ওসির রুম থাইক্যা আমরা বের হইয়া দাঁড়ায় আছি। কিছুক্ষণ পর একজন পুলিশ আইসা কয়, আবু বকর কে? আমি কইলাম–আমি আবু বকর। হেয় আমারে হাত ধইরা ওসির রুমে নিয়া গিয়া দরজা লাগাই দিলো।

ওসি আমারে কয়, তুমি কি আবু বকর? কইলাম হ্যাঁ। কয়, তুই আমার লোকেরে (রফিক নামের এক ব্যক্তি, যিনি স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি।) অপমান করছস? আমি তখন মাথা নিচু কইরা আছিলাম। হেয় (ওসি) আমার চুল, কান ধরি এত টানা-হেঁচড়া করছে আর থাপ্পর মারছে, আমি ভাই চারদিন জ্বরে পড়ে আছিলাম।

কেউ আমারে কোনো দিন মারে নাই। পরে কলিং বেল চাপি এক পুলিশরে ডাইকা আমারে ধরি বের করি দিছে। পরে আমি চলি আইছি। কিন্তু হেয় সিনারি আমার সাথে থাকা সবাই জানলার গ্লাস দিয়া দেইখা ফেলছিল।’

মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বরুড়া থানার ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘না, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। আর আমি আবু বকর নামে কাউকেই চিনি না।’

তবে এসআই অলিউল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন আবু বকরকে ডেকে নিজের কক্ষে নিয়েছিলেন ওসি আজম উদ্দিন। কী কারণে ডেকেছিলেন তা বলতে পারেন না অলিউল।

অলিউল জানান, উভয়পক্ষের কথাবার্তা শেষে চলে যাওয়ার জন্য বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন তারা। তখন ওসি (তদন্ত), এসআই অলিউলসহ আরও অনেকেই বাইরে কথা বলছিলেন। এমন সময় আবু বকরকে ওসি ডেকে পাঠান। মারধরের অভিযোগ তিনিও শুনেছেন বলে জানান।

সূত্র: প্রিয়.কম