ছাতকে মাদ্রাসা শিক্ষক কর্তৃক তরুণী ধর্ষণ: মহিলা পরিষদের ঘটনাস্থল পরিদর্শণ

মাদ্রাসা কৃর্তপক্ষ ঐ শিক্ষকে বহিষ্কার করেছে

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০১৮ | আপডেট: ১১:২৩:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০১৮

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মাদ্রাসা শিক্ষক কর্তৃক এতিম তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় শনিবার আমেরতল গ্রামে গিয়ে ভিকটিম পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে প্যানেল আইনজীবী নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে সুনামগঞ্জ জেলা মহিলা পরিষদ। এসময় তারা ধর্ষণের সত্যতা পান পরিষদের নেতৃবৃন্দ। এ ঘটনায় ভিকটিম পরিবার রোববার ছাতক থানায় হাসনাবাদ মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আব্দুল হকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবে বলে মহিলা পরিষদকে জানিয়েছে। এদিকে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় এই ধর্ষণের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর মাদ্রাসা কৃর্তপক্ষ মাওলানা আব্দুল হককে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করেছে। এলাকবাসী এ ঘটনায় ঘৃণা জানিয়ে তার কঠিন শাস্তি দাবি করেছেন।

মহিলা পরিষদের সভানেত্রী গৌরী ভট্টাচার্য্যরে নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন এডভোকেট বিল্লব ভট্টাচার্য্য,এডভোকেট রজত কান্তি দাস,মহিলা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক পঞ্চালি চৌধুরী,অর্থ সম্পাদক মল্লিকা দাস,আইন বিষয়ক সম্পাদক রাশেদা বেগম,কার্যকরি কমিটির সদস্য মাজেদা আক্তারসহ সাংবাদিকরাও প্রতিনিধি দলে ছিলেন।

প্রতিনিধি দল ছাতকের নয়া লম্বাহাটি গ্রামের নির্যাতিত তরুণী,তার ভাই ও তার বর্তমান স্বামীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। তরুণীর প্রবাসীর স্বামীর সঙ্গেও যোগাযোগ করেন পরিষদের নেতৃবৃন্দ। এসময় প্রবাসী স্বামী মাওলানা আব্দুল হকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরে মহিলা পরিষদের সহায়তা চান। এক পর্যায়ে মামলা করতে ছাতক থানায় রওয়ানা হলে মাওলানা হাসান নামের এক ব্যক্তি ভিকটিম নারীকে ফিরিয়ে নিয়ে মামলা করবেন বলে মহিলা পরিষদ নেতৃবৃন্দকে বিদায় করে দেন।

মহিলা পরিষদ সভানেত্রী গৌরী ভট্টাচার্য্য বলেন ভিকটিম ও তার পরিবার আমাদের প্যানেল আইনজীবী ও প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা ধর্ষক আব্দুল হকের এই জঘন্য ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তার বিচার চেয়েছেন এবং মামলা করতে রাজি হয়েছে। ছাতক থানায় মামলা দায়ের করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত ১৭জন সন্তানের জনক মাওলানা আব্দুল হক (৫৫)এর বাড়ি ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের নয়া লাম্বাহাঠী গ্রামে। তিনি স্থানীয় জামেয়া ইসলামিয়া দারুল হাদিস হাসনাবাদ মাদরাসার শিক্ষক। অভিযুক্ত শিক্ষক প্রভাবশালী হওয়ায় ও স্থানীয় সালিসকারীদের ম্যানেজ করে এ ঘটনায় স্থানীয় ভাবে সমাধানের জন্য সালিসে অভিযুক্ত শিক্ষককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করে। কিন্তু এই ঘটনায় তরুণী ও তাঁর পরিবার আইনি ব্যবস্থা নিতে চাইলে বাধা দিচ্ছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি ও কিছু সালিসকারী।

নির্যাতিত তরুণীর পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়,উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের দরিদ্র ওই তরুণী কিশোরী বয়সে আব্দুল হকের কুনজরে পড়েন। তবে আব্দুল হক সম্পর্কে তরুণীর দাদা হওয়ায় বিষয়টি কেউ সে ভাবে দেখে নি। পরে তরুণীকে ধর্মীয় কথাবার্তা ও প্রবাসীর কাছে বিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করে আসছিলেন আব্দুল হক। এই ঘটনাটি তাঁর স্ত্রী জানলেও আব্দুল হকের ভয়ে বিষয়টি তিনি চেপে যান।

দুই বছর আগে আব্দুল মধ্যস্থতা করে এক প্রবাসী বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে বিয়ে দেন তরুণীকে। বিয়ের আগে আব্দুলের যৌন নির্যাতনে তরুণী চারবার অন্তঃসত্ত¡া হয়ে পড়েন বলে তাঁর পরিবার জানায়। বিয়ের পর তরুণী বাবার বাড়ি বেড়াতে এলে তাঁকে ধর্ষণ করে আব্দুল হক।
প্রায় ১৫দিন পূর্বে এ নিয়ে গ্রামে সালিস বৈঠক বসে। বৈঠকে আব্দুল হক তাঁর কুকর্মের কথা স্বীকার করে দুই লাখ টাকা ক্ষতিপ‚রণ দিতে চান। কিন্তু তরুণী ও তাঁর পরিবার আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানায়।

আব্দুল হকের কারণে আলেম-ওলামার মানসম্মান নষ্ট হবে এই বিষয়টি সামনে এনে আইনগত নিষ্পত্তির বদলে স্থানীয় ভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা করছেন সালিশকারীরা। আর তরুণী ও তাঁর পরিবারকে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধা দিচ্ছেন আব্দুল হক।

ছাতক থানার ওসি মোঃ আতিকুর রহমান বলেন,এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। ভিকটিম পরিবার আইনগত সহায়তার জন্য এলে আমরা ব্যবস্থা নেব।