ছয় লেনের ফ্লাইওভার হচ্ছে পলাশী থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:২৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০১৮ | আপডেট: ১:২৭:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০১৮
সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে (ডিএনসিসি) এ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সম্ভাব্য প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ডিএনসিসি পাবে ৬০ ভাগ রাজস্ব এবং ডিএসসিসি পাবে ৪০ ভাগ রাজস্ব।

আমিনবাজার থেকে পলাশী পর্যন্ত ছয় লেনের ১০.৮০ কিলোমিটার ফ্লাইওভার করা হচ্ছে। প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপে (পিপিপি) এ প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

আর বাকি ৪ লেনে স্বাভাবিক সড়ক লেন হবে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ ফ্লাইওভারের ১১টি স্টেশন ও ১৫টি র‌্যাম্প হবে। এ প্রকল্প বাস্তবে রূপ দিতে এখন প্রয়োজন ঢাকা যানবাহন সমন্বয় বোর্ড (ডিটিসিএ), কি পয়েন্ট ইন্সটলেশনের (কেপিআই) অনুমোদন। ডিএনসিসি সংশ্লিষ্টরা এ দুই সংস্থার অনুমোদন দিতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে।

আমিনবাজার-গাবতলী-শ্যামলী-গণভবন-আসাদগেট-নিউমার্কেট আজিমপুর হয়ে পলাশী গিয়ে প্রকল্প শেষ হবে। এ প্রকল্পের প্রস্তাবিত নামকরণ করা হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু করিডোর’। প্রকল্প বাস্তবায়নে আনসলিসাইটিড প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মো: আসলামুল হকের মালিকানাধীন মাইশা গ্রুপ।

এ প্রস্তাবনার চূড়ান্ত খসড়া শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীকে দেখানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রাথমিক অনুমোদন মিললে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ৬ লেনের এই ফ্লাইওভারের ২ লেন হবে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি)।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব মো: মাহবুব হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী উদ্যোগী প্রতিষ্ঠান মাইশা গ্রুপ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মাধ্যমে একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এ ব্যাপারে ডিএনসিসির মতামত চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ডিএনসিসির মতামত পেলে আমরা পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করব।’

মাইশা গ্রুপের কনসালটেন্ট ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এসএম সালেহ উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সভা থেকে গণভবন ও সংসদ ভবনের নিরাপত্তার জন্য বিকল্প রুট নিয়ে স্টাডি করতে বলা হয়েছে। আমরা সেটা করে দেখেছি, কিন্তু বিকল্প রুটে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।

এ জন্য সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থেকে আসাদগেট পর্যন্ত এক কিলোমিটার ঢেকে দিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার বিষয়ে প্রকল্প স্টাডি করা হয়েছে। এভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে গণভবন ও সংসদ ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রকল্প ব্যয়ও সহনীয় থাকবে।’

আরও বলেন, এ প্রকল্প রুটে অন্য বাধা হচ্ছে, সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (আরএসটিপি) অনুযায়ী গাবতলী থেকে রাসেল স্কয়ার পর্যন্ত সড়কে আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল হওয়ার কথা রয়েছে।

এ প্রকল্প নিয়েও অনেকে বলছেন, এটি সাংঘর্ষিক হবে। কিন্তু আমরা স্টাডি করে দেখেছি, কারিগরি দিক বিবেচনায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে এখন আর কোনো অসুবিধা দেখছি না। অবশ্য বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবেন।

ডিএনসিসির ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো: আরিফুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, আমিন বাজার থেকে পলাশী পর্যন্ত ফ্লাইওভার প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশা অনুসরণ করে কাজ হচ্ছে। শিগগিরই প্রকল্পের সর্বশেষ স্টাডি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে দেখানো হবে। সূত্র: যুগান্তর