‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ খালেদাকে ছাড়াই নির্বাচনে যাবে যদি……

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:২৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০১৮ | আপডেট: ৭:২৮:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০১৮
ফাইল ছবি

টিবিটি রাজনীতিঃসুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ পরিবেশ থাকলে খালেদা জিয়াকে ছাড়াই‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’নির্বাচনে যাবে বলে কূটনৈতিকদের জানিয়েছেন ফ্রন্টের নেতারা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল লেক শোরে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে এ অভিমত ব্যক্ত করেন। বৈঠকে থাকা একটি সূত্র জানিয়েছে, কূটনৈতিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ফ্রন্টের নেতারা এ মন্তব্য করেন।

সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসনকে ছাড়া তোমরা তো নির্বাচনে যাবে না? কূটনৈতিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা সরাসরি উত্তর দেন, সেটা নয়। নির্বাচনের পরিবেশ থাকলে অবশ্যই যাবো।

সূত্র আরো জানায়, কূটনৈতিকরা জানতে চান জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক আছে কী না? এ প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন কূটনৈতিকদের জানান, স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিদের নিয়েই আমরা জোট করেছি। আর জামায়াতের তো এখন নিবন্ধন নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠকে উপস্থিত বিএনপির এক শীর্ষ নেতা জানান, একজন কূটনৈতিক প্রশ্ন করেছিলেন, তোমাদের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? জবাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটা তো যৌথ আন্দোলন। সে কারণে যৌথ আন্দোলনে লিডার তো এভাবে হয় না।

সূত্র আরো জানায়, ঐক্যটা কেনো এবং কোন লক্ষ্য থেকে করা হয়েছে, সে বিষয়গুলো কূটনৈতিকদেরকে অবহিত করা হয়। আর কূটনৈতিকদের পক্ষ থেকে ঐক্যফ্রন্টের কাছে প্রশ্ন ছিলো, ক্ষমতায় গেলে কী কী পরিবর্তন আনবেন? নির্বাচন অংশগ্রহণ করবেন কি না? দফাগুলো মানা হবে কি না এবং প্রধানমন্ত্রী কীভাবে হবে?

এছাড়া কূটনৈতিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এসব দাবি তো আসলে বিএনপির। তখন ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়, যে কাউকে জিজ্ঞাস করুন না কেনো, এমনি কী আপনারা আওয়ামী লীগকেও জিজ্ঞাস করুন, তারা সুষ্ঠু নির্বাচন চায় কি না? তখন তারাও বলবেন, তারা সুষ্ঠু নির্বাচন চান। পাশাপাশি খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয় নিয়েও আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের দাবিতে সরকারকে দেয়া ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবি ও ১১ লক্ষ্য অবহিত করা হয় কূটনৈতিকদের।

প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার বৈঠকের পর বিকেল ৪ টা ২০ মিনিটে কূটনীতিকরা বেরিয়ে যান। তবে এসময় কূটনীতিক বা ঐক্যফ্রন্টের কেউই সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। আনুষ্ঠানিক কোনো ব্রিফিংয়ের কথাও জানানো হয়নি।

জানা গেছে, বৈঠকের শুরুতে সূচনা বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে ড. কামাল হোসেন কূটনৈতিকদের ব্রিফ করেন।

বৈঠকে কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স, জাপান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, কাতার, ভিয়েতনাম, কোরিয়া, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্কসহ ২৫টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও তাদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমদ, ইনাম আহমদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, গণস্বাস্থ্য বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জেএসডি সভাপতি আসম আব্দুর রব, জেএসডির সহ-সভাপতি তানিয়া রব, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, গণফোরামের সুব্রত রায় চৌধুরী, বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর ও ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা প্রমুখ।

ডেইলি বাংলাদেশ