জানুয়ারিতে ১০ ডিগ্রির নীচে নামবে তাপমাত্রা

প্রকাশিত: ৭:১১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০১৮ | আপডেট: ৭:২২:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০১৮

সাদা মেঘের ভেলা ভাসিয়ে শরৎ বিদায় নিয়েছে সদ্যই। হেমন্তের শিশির বিন্দুতে সাদা কাশফুলের রঙও এখন ধূসর প্রায়। শীতের আগমনী বার্তায় ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে ভোরের সোনারাঙা রোদ। বিকেল পাঁচটা না বাজতেই পশ্চিমে ঢলে পড়ছে সূর্য। গোধূলী লগ্ন পেরিয়ে জলদিই নেমে আসছে সন্ধ্যা। ভোরের আলো ফুটতেই স্নিগ্ধ শিশিরে ভেজা সবুজ ধানের পাতাগুলো নুয়ে পড়ছে বাতাসে।

সাতসকালে বয়ে আসা হিমেল হাওয়ায় টের পাওয়া যাচ্ছে, ধীর পায়ে শীত নামছে প্রকৃতিতে। আর শুক্রবারের (১৯ অক্টোবর) শিশির ভেজা ভোর যেনো জানান দিলো ধীর পায়ে শীত আসছে। ভোরের আলো ফোটার আগেই প্রকৃতিতে আজ ভর করেছে ঘন কুয়াশা। চারিদিকে তাই আজ সূর্যের আভা ছড়াইনি। নেমে এসেছে শীতের আমেজ।

পঞ্চগড়ের জেলা সদরসহ উত্তরের সীমান্ত উপজেলা তেঁতুলিয়া ঘুরে দেখা যায়, পাহাড়ি হিমেল হাওয়ার কারণে দিনের শেষে সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত গরম কাপড় ব্যবহার করছে স্থানীয়রা। ফুটপাতেও গরম কাপড়ের বেচা-কেনা শুরু হয়েছে। শীতের কারণে রাতে কাঁথা-কম্বল ছাড়া ঘুমানো কষ্ট কর হয়ে পড়েছে বলে জানায় তেঁতুলিয়াবাসী।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক ফজলে রহমান বলেন, রোববার (৪ নভেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন বিকেল ৩টা পর্যন্ত সর্বচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী জানুয়ারিতে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসবে।

কার্তিকের শুরু থেকেই এমন শীতের আবহ তৈরি হয়েছে দেশের উত্তরাঞ্চলে। হিমালয়ের কোলঘেঁষা ঠাকুরগাঁও জেলায় ধীর পায়ে এগিয়ে আসছে শীত। ক্রমেই কমছে বাতাসের আর্দ্রতা আর বাড়ছে হিমেল ঠাণ্ডা পরশ। বর্তমানে দিনের বেলায় গরম ও রাতের বেলা শীত অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে ঠাণ্ডার কারণে ভোর বেলায় কাঁথা শরীরে মুড়িয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে মানুষ।

ঠাকুরগাঁওয়ে শীতের আগমন জানান দিচ্ছে কুয়াশার উপস্থিতি। আশ্বিন মাসের প্রথম দিন থেকে এখানে কুয়াশা পড়ছে। ভোরবেলা কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে সবদিক। এ কারণে রাস্তায় চলাচলকারী মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনকে হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, দিনের বেলা বেশ গরম থাকলেও সন্ধ্যা নামার পর থেকেই কুয়াশা পড়তে শুরু করে। রাতভর বৃষ্টির মত টুপটুপ করে কুয়াশা ঝরতে থাকে। বিশেষ করে ধানের শীষে কুয়াশা বিন্দু বিন্দু জমতে দেখা যায়। সকালে যারা ঘাসের ওপর দিয়ে হাঁটাচলা করেন কুয়াশার কারণে তাদের কাপড় ভিজে যায়।

ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষক আশরাফুল জানান, প্রচণ্ড গরমে জনজীবন যখন কাহিল, তখনই শীত প্রশান্তির বার্তা নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। আমন ধান পাকা শুরু করলেই আমরা বুঝি শীত আসছে। আমাদের মাঝে শীত আসে প্রচণ্ড গরমের উপর হিমেল শীতের পরশ হিসেবে।

স্কুল মাষ্টার ইয়াছিন আলী বলেন , শীতকাল বলতে আমরা উৎসবের ঋতুকে বুঝি। এ সময় গ্রাম বাংলায় পিঠা পুলি আর ভাপাপিঠার আয়োজন করা হয়।

চিকিৎসক জানান, বর্তমান আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে শীত ও গরম বিরাজ করছে। পাশাপাশি এ কারণে শিশুদের মাঝে দেখা দিচ্ছে সর্দি কাশি। তাই এ সময় অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে যাতে শিশুদের শীত গরম আবহাওয়া থেকে রক্ষা করা যায়।

গড়েয়া বাজারের চা ব্যবসায়ী সবুজ বলেন, ‘দিনে রোদের তাপ বেশ ভালোই থাকে। সন্ধ্যা হতেই বইতে শুরু করে ঠান্ডা হাওয়া। সারারাত চা বিক্রি করি রাত ১২টার পর তা আরো বেড়ে যায়। রাতে গরম কাপড় গায়ে দিয়ে চা বিক্রি করতে হয়। আর সকালে দেখা যায় ঘন কুয়াশা।’ এদিকে লেপ-তোষকের দোকানগুলোতে বাড়ছে মানুষের ভিড়, ফলে শীতের আগেই এসব দোকানিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। আগে ভাগেই শীত নামায় লেপ-তোষকের বিক্রি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন গড়েয়া হাটের লেপ-তোষকের দোকানের মালিক জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ‘এবার একটি লেপ বানাতে ১২০০-১৪০০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। সারা দিনে ২০-৩৫টা লেপ সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া আগাম ঠান্ডা পড়ায় স্টকে রেডিমেট লেপ-তোষক রাখা হয়েছে ।’