জীবনের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত আর জেতা হলো না ইয়েমেনের শিশু আমাল

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:০১ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০১৮ | আপডেট: ১১:০১:পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০১৮
মারা গেল ইয়েমেনের শিশু আমাল হুসেন। ছবি: গ্লোবাল নিউজ

যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অন্যতম মুখ হয়েও জীবনের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত আর জেতা হলো না ইয়েমেনের শিশু আমাল হুসেনের। গেল সপ্তাহে এক মার্কিন দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছিল তার ছবি। মূলত সেখানে না খেতে পাওয়া, কঙ্কালসার চেহারার ৭ বছরের আমাল এই ক’দিনে যুদ্ধবিদ্ধস্ত ইয়েমেনের মুখ হয়ে উঠেছিল। খবর গ্লোবাল নিউজ।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার (১ নভেম্বর) তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশটির আসলাম শহরের এক শরণার্থী শিবিরে থাকাকালীন সময়ে আমাল মারা গেছে। এ বিষয়ে এক সাক্ষাৎকারে আমালের মা মরিয়ম আলি বলছেন, ‘আমার মন ভেঙে গিয়েছে। আমাল খুব হাসিখুশি একটা বাচ্চা ছিল। এখন আমার অন্য বাচ্চাদের নিয়ে খুব চিন্তা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে গ্লোবাল নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই চোখে শূন্যতা, পাঁজরের হাড় বের হওয়া আমালের ছবি সে সময় ফেসবুকে অন্তত ৪৩ হাজার বার শেয়ার করা হয়েছিল।

পরে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ছবিটিকে ‘উলঙ্গ, তাই যৌন ইঙ্গিত পূর্ণ ও অশালীন’ তকমা দিয়ে ব্লক করতে শুরু করে। মূলত এর ফলেই প্রতিবাদের ঝড় তোলেন নেটিজেনরা। মর্মান্তিক এমন একটি ছবিকে এভাবে ব্লক করার মাধ্যমে ইয়েমেনের বাস্তবকেই সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হচ্ছে বলে সরব হন তারা। পরে অবশ্য নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

সংবাদে আরও বলা হয়, চূড়ান্ত অপুষ্টিতে ভুগতে থাকা শিশু আমালকে সম্প্রতি ইয়েমেনে জাতিসংঘ পরিচালিত একটি স্বাস্থ্য শিবিরে আনা হয়েছিল। মূলত সেখানেই এই ছবিটি তোলা।

সে সময় অপুষ্টিতে ভুগতে থাকা শিশু আমালের চিকিৎসক জানান, ডায়রিয়ায় ভুগছিল মেয়েটা। প্রতি দুইঘণ্টা পর পর দুধ খাওয়ানো হচ্ছিল। তবে সে এতটাই অসুস্থ ছিল যে প্রতি বারই খাওয়ার পর তা বমি করে বেরকরে দিত। সে সময় তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তির জন্য পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। তবে অর্থের অভাবে শরণার্থী শিবিরেই আমালকে ফিরিয়ে আনে তার পরিবার। পরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে আমালের এই মৃত্যুতে ইয়েমেনের যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য সরাসরি আঙুল উঠছে সৌদির দিকেই। ইয়েমেনের এমন দুরবস্থা আসলে সৌদির সঙ্গে ইরানের ছায়া যুদ্ধের ফলেই হয়েছে। ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মূলত ইয়েমেন থেকে হটাতে ক্রমাগত হামলা চালাচ্ছে সৌদি। আর তাতে মদদ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

উল্লেখ্য, আকাশপথে সৌদির হামলা থেকে নিজেদের বাঁচাতে তিন বছর আগে বাড়ি ছেড়েছিল শিশু আমালের পরিবার। জাতিসংঘের এক হিসাব অনুযায়ী, ইয়েমেন এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ লাখের বেশি শিশু আমালের মতো অপুষ্টিতে ভুগছে।