জোরে হাসতে গিয়ে আটকে গেল চোয়াল, মুখ হা হয়ে বিপাকে যুবতী!

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৪৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯ | আপডেট: ৭:৪৮:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯

কংক্রিটের দুনিয়ায় বাস করতে করতে খোলা বাতাসে প্রাণ খুলে হাসতেই যেন ভুলে যাচ্ছে মানুষ। অথচ এই হাসি শরীর ও মনকে দারুণভাবে চাঙ্গা রাখে। শরীরের অন্দরের খোল-নলচে সচল রাখতে জগিংয়ের মতোই কার্যকরী এই হাসি। অনেকে আবার নিয়মিত হাসতে লাফিং ক্লাসেও যান। এসব কথা তো সকলেরই জানা। কিন্তু হাসতে গিয়ে যে কাউকে এমন বিপাকে পড়তে হয়েছে, তা হয়তো আগে অনেকেই শোনেননি।

কোনও কোনও সময় মাত্রা ছাড়িয়ে যায় হাসি। কোনওভাবেই তা আটকানো সম্ভব হয় না। খানিকক্ষণের বিরতি, তারপর আবার অট্টহাসি। জীবনে এমন মুহূর্ত তো খুব বেশি আসে না। তাই মন খুলে হাসার সুযোগ হাতছাড়া করতেও ইচ্ছা করে না। এমনকি অনেকে হাসতে হাসতে হাঁপিয়েও ওঠেন। আর ঠিক সেই সময়ই ঘটে বিপত্তি। হাসি তখন রীতিমতো দুশ্চিন্তায় রূপান্তরিত হয়ে যায়।

তেমনই হয়েছে এক চীনা মহিলার ক্ষেত্রে। ট্রেন সফরে তিনি এমনভাবে হাসতে শুরু করেছিলেন, যে যখন থামলেন তখন কেলেঙ্কারি ঘটে গিয়েছে। এ ঘটনা যেন কমেডি ছবির চিত্রনাট্যকেও হার মানায়।

বিষয়টা আরও একটু বিস্তারিত বলা যাক। ট্রেনের মধ্যে জোরে জোরে হাসছিলেন এক যুবতী। কিন্তু ঠিক কী কারণে এত আনন্দ পেয়েছিলেন, তা জানা যায়নি। প্রক্ষত্যদর্শীরা জানান, বেশ কয়েক মিনিট ধরে একইভাবে অত্যন্ত জোরে হাসতে থাকেন যুবতী। আর তাতেই তাঁর চোয়াল সরে যায়। ব্যস, কোনওভাবেই আর মুখ বন্ধ করতে পারছিলেন না তিনি। না পারছিলেন কথা বলতে আর না কিছু খেতে। দমকা হাসির জেরে মুখ হা করেই বসে থাকতে হয় তাঁকে।

যে খবর শুনে হা হয়ে যান তাঁর পরিবারের লোকজন। আর যুবতীর সেই হা মুখওয়ালা ছবিই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। যুবতীর এমন অবস্থা দেখে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের সাহায্য চান অন্যান্য যাত্রীরা। সেই ট্রেনেই উপস্থিত ছিলেন চিকিৎসক লুও ওয়েনশেং। খবর পেয়েই ছুটে আসেন তিনি।

লুও বলছেন, “এসে দেখি যুবতী কথাও বলতে পারছেন না, মুখ বন্ধও হচ্ছে না। প্রথমে দেখে মনে হয়েছিল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু রক্তচাপ পরীক্ষা করে দেখি তেমন কিছু হয়নি।” যুবতী নানা অঙ্গ-ভঙ্গি করে তাঁর চোয়াল ঠিক করে দেওয়ার অনুরোধ জানাতে থাকেন।

কিন্তু তাঁর উদ্বেগ বাড়িয়ে আর অপেক্ষা দীর্ঘায়িত করে লুও জানান, এব্যাপারে তিনি পারদর্শী নন। তাই তিনি যে চোয়াল সোজা করে দিতে পারবেন এমন কোনও গ্যারান্টি নেই। কিন্তু যুবতীর লাগাতার অনুরোধে শেষমেশ চোয়াল সোজা করতে সফল হন চিকিৎসক।

অনেক সময় জোরে হাসলে অথবা লম্বা হাই তুললে কিংবা বড় করে হা করতে গিয়েও চোয়াল সরে যেতে পারে। এর আগে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বমি করার সময়ও এই যুবতীর নাকি চোয়াল সরে গিয়েছিল। তাই সাবধান, জোরে হাসার আগে কিন্তু সতর্ক থাকবেন।

-সংবাদ প্রতিদিন।