ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তার ফ্ল্যাটে সোনার টয়লেট

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:৩৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০২১ | আপডেট: ৬:৩৩:অপরাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০২১
প্রাসাদোপম বাড়িতে বিলাসবহুল বেডরুম ও সোনার টয়লেট। ছবি: বিবিসি

রাশিয়ার পুলিশের ঘুষ নেওয়ার একটি তদন্তে এক কর্মকর্তার বৃহৎ অট্টালিকায় সোনায় মোড়ানো টয়লেটসহ বিভিন্ন বিলাশী সামগ্রী পাওয়া গেছে। রুশ তদন্তকারীরা বলছেন, তারা দুর্নীতিবাজ পুলিশের একটি চক্রকে গুড়িয়ে দিয়েছেন। বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে।

দ্য ইনভেস্টিগেটিভ কমিটি (এসকে)-এর ওয়েবসাইটে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে একটি বৃহৎ অট্টালিকাসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনায় অভিযান চালানো হয়েছে।

অট্টালিকাটি দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তাদের বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা

দেশটির স্টাররোপোল অঞ্চলের ৪৫ বছর বয়সী পুলিশ কর্নেল অ্যালেক্সেই সাফানোভ। আরও ৩৫ কর্মকর্তার সঙ্গে তার বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাফিয়া গ্যাং পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তকারীরা বলেন, এই গ্যাং গাড়ির চালকদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে বিলাসী জীবনযাপন করতেন। দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তারা সাফানোভের বাড়িতে তদন্ত করেছে। এরপর তার বাড়ির ছবি প্রকাশ করেছেন। যাতে সোনার টয়লেট, বিডেট ও সিংকও দেখা গেছে।

এক রাজনীতিক এই চক্রকে মাফিয়াদের সঙ্গে তুলনা করেছেন

বাড়ির ফ্লোর মার্বেল দিয়ে টাইল করা। এছাড়া বাথরুম ক্যাবিনেটের পাশেই বারোক-পদ্ধতির ব্যাকগ্রাউন্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এমনকি ওই বারোক-শৈলীও সোনা দিয়ে অঙ্কিত।

দুর্নীতিতে দোষী প্রমাণিত হলে কর্নেল সাফানোভকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এই অভিযানে তার আগের কর্মকর্তা অ্যালেকজান্ডার আরঝানুখিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রান্নাঘরেও রয়েছে সোনায় মোড়ানো বিভিন্ন আসবাবপত্র

ক্রেমলিনপন্থী দল ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির এমপি অ্যালেকজান্ডার খিনশটেইন বলেন, অভিযানে প্রদেশটির ট্রাফিক বিভাগের মোট ৩৫ জন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মূলত স্টাভরোপলে তারা মাফিয়ার মতো কাজ করতেন। কালোবাজারে ভুয়া নম্বর প্লেট বিক্রি থেকে শুরু করে কার্গো পারমিট, বালু চালান, সবকিছু থেকে তারা অর্থ আদায় করতেন।

সাফানোভর বাড়িতে প্রাসাদোপম বাড়ি, বিলাসবহুল গাড়ি, দামি আসবাবপত্র, নগদ অর্থ ও সোনার টয়লেট পাওয়া গেছে। ডেইলি মেইলের খবর বলছে, সাফানোভসহ অপরাধী চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক ও বর্তমান পুলিশ পরিদর্শকেরাও রয়েছেন।