টয়লেটে মিললো নবজাতকের লাশ!

প্রকাশিত: ৪:৪৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯ | আপডেট: ৪:৪৮:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯
প্রতীকী ছবি

নজরুল ইসলাম নাহিদ, সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: মামলার আসামি না হয়েও মায়ের সঙ্গে কারাগারে ৫ বছরের আসিফ। গত শনিবার সন্ধ্যায় সখীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সৌখিন মোড় এলাকার আবদুল জলিলের ভাড়াটিয়া বাসার টয়লেট থেকে এক নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ওই নবজাতকের মা আর্জিনা বেগমকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়। অবৈধভাবে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে সখীপুর থানায় মামলা করা হয়েছে। রবিবার সকালে আর্জিনা ও সঙ্গে থাকা ছেলে ৫ বছরের আসিফকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। নবজাতকের লাশ ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মামলা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়,৭ বছর আগে সখীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সৌখিন মোড় এলাকার আজাহার আলির মেয়ে আর্জিনা আক্তারের সঙ্গে উপজেলার দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের শোলাপ্রতিমা গ্রামের ইমান আলির ছেলে আলমের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। বর্তমানে ছেলে আসিফের বয়স ৫ বছর।

গত তিন বছর আগে দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আলী হোসেনের ছেলে আজগর আলীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন আর্জিনা। এ ঘটনা জানাজানি হলে গত দুই বছর আগে আলম আর্জিনাকে তালাক দেয়। এরপর থেকে সন্তান আসিফকে নিয়ে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সৌখিন মোড় এলাকায় আবদুল জলিলের বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে।

তালাকের পর আর্জিনা ও আজগর আলীর সম্পর্ক আরো গভীর হয়। আর্জিনার বাসায় নিয়মিত যাতায়াতও ছিল আজগরের। এ ব্যাপারে বেশ কয়েক দফা শালিশী বৈঠকও করে এলাবাসী।

এ ব্যাপারে আর্জিনার ভাই রফিকুল ইসলাম জানান- সম্পর্কের কারনে আজগর আলী আর্জিনার বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করত। তাদের অনৈতিক সম্পর্কের কারণে আর্জিণা অন্ত:স্বত্তা হয়ে পড়ে। গত ৭ সেপ্টেম্বর বিয়ের দাবিতে আর্জিনা আজগর আলীর বাড়িতে অবস্থান নিলে আজগর আলী ও তার পরিবারের লোকজন আর্জিনার ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালায়।

এক পর্যায়ে আর্জিনা অসুস্থ্য হয়ে পড়লে ৮ সেপ্টেম্বর তাকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করি। কিছুটা সুস্থ্য হলে সে বাসায় ফিরে আসে। শনিবার সন্ধ্যায় আর্জিনা টয়লেটে গেলে তার গর্ভের সন্তান পড়ে যায়। আজগর আলীর নির্যাতনের কারণেই এ গর্ভপাত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

সখীপুর থানার ওসি (তদন্ত) এএইচএম লুৎফুল কবির বলেন- নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় নবজাতকের মাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর্জিনার ৫ বছরের ছেলে আসিফকে তার স্বজনরা নিতে না চাওয়ায় তাকেও তার মায়ের সঙ্গে আদালতে পাঠানো হয়েছে।