ডলারের বিপরীতে টাকার মান আরও কমলো

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০১৮ | আপডেট: ১২:০৯:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০১৮
ছবিঃ সংগৃহিত

ডলারের বিপরীতে যখন কয়েকটি দেশের মুদ্রাবাজার অস্থির, তখন টাকার মান ধরে রেখেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রায় তিন মাস ধরে ডলারের বিপরীতে একই জায়গায় আটকে ছিল টাকা। চলতি মাসে তা তিন দফায় কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, তিন মাস আগে ডলারের বিপরীতে টাকার মান ছিল ৮৩ টাকা ৭৫ পয়সা। চলতি মাসের প্রথম দিনেই এই মান কমে যায়। এরপর দুই দফা কমে দাঁড়িয়েছে ৮৩ টাকা ৭৫ পয়সায়।

গত তিনদিনে তা আরও কমে ৮৩ টাকা ৮০ পয়সা হয়েছে। মূলত আমদানি দায় শোধ করতে এ হার বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তবে খোলা বাজারে ডলারের দাম ৮৬ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।’

এদিকে মানি এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী দেশ ভারতে গত তিন মাসে ডলারের দাম ভারতীয় মুদ্রায় ৬ থেকে ৭ রুপি বেড়েছে। ভারতে গত জুনে প্রতি ডলারের দাম বিনিময়মূল্য ছিল ৬৬ রুপির কাছাকাছি।

আজ মঙ্গলবার তা বেড়ে প্রায় ৭৪ রুপির কাছাকাছি লেনদেন হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে অনেক বড় বড় প্রকল্প চলায় আমদানি ব্যাপক হারে বেড়েছে। এতে সামনের দিনগুলোতে ডলারের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ৮৮২ কোটি (৮.৮২ বিলিয়ন) ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে আমদানি বেড়েছে ৫.৬৬ শতাংশ।

অন্যদিকে গত জুলাই-আগস্ট মাসে ৬৭২ কোটি ডলার মূল্যে পণ্য রপ্তানি হয়েছে। যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২ শতাংশ বেশি।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নীতির কারণে আজ ডলারের বিপরীতে টাকার মান অতোটা কমেনি। তবে আগামীতে এই অবনমনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং- সানেমের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, গত কয়েক মাসে ডলারের বিপরীতে রুপির ব্যাপকহারে পতন হয়েছে। রুপির মান নিয়ন্ত্রণে ভারতের শক্ত অবস্থান না থাকার কারণেই এটি হয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের সতর্কমূলক নীতির কারণে ডলারের বিপরীতে টাকার মান অতটা কমেনি।

জানা গেছে, চলতি বছরের জুন থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের দাম নির্দিষ্ট করে দেয়। ব্যাংকগুলোকে মৌখিকভাবে জানিয়ে দেয়, ৮৩ টাকা ৭৫ পয়সার বেশি দামে আমদানি দায় শোধ করা যাবে না। এ জন্য ব্যাংকগুলোর কাছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে ডলার বিক্রি করে, তার দামও ছিল ৮৩ টাকা ৭৫ পয়সা।

গত ২৮ জুন থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডলারের দাম এভাবেই আটকে রেখেছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।