ডাকসু নির্বাচন না দেওয়ায় নোটিশের প্রেক্ষাপটে যা বললো ঢাবি কর্তৃপক্ষ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:১৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮ | আপডেট: ১:১৮:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮

কোর্টের নির্দেশনা থাকার পরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন আয়োজনে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় ঢাবি কর্তৃপক্ষের নামে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর বিষয়ে কথা বলেছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ।

উপাচার্য (ভিসি) ড. মো. আখতারুজ্জামান, ঢাবির প্রোক্টর ড. একেএম গোলাম রাব্বানী ও ট্রেজারার ড. কামাল উদ্দিনকে এ নোটিশ পাঠিয়েছে রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ। মঙ্গলবার ডাকযোগে তিনি এই নোটিশ পাঠান।

বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আমরা এখনো নোটিশ হাতে পাইনি। হাতে পাওয়ার পর আমরা নিশ্চয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক সামাদ বলেন, ডাকসু নির্বাচন শিক্ষার্থীদের অধিকার। তাই আমরা নোটিশের বিষয়টি নিয়ে উপাচার্য মহোদয়ের সঙ্গে বসবো। এরপরই করণীয় জানানো হবে।

ডাকসু নির্বাচন কেন দেয়া হচ্ছে না, এই প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ও কলামিস্ট হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, ডাকসু নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য খুব প্রয়োজনীয়। নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলাসহ শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বা সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্যও ডাকসুর ছাত্র প্রতিনিধিত্ব দরকার। তবে বর্তমান পরিস্থিতি তো এটা পুরোপুরি উধাও। সেই ১৯৯১ এর পর কোনো নির্বাচন হয়নি । তাই ছাত্র রাজনীতির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন জন্ম হয়। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনার ক্ষেত্রে ছাত্রদের স্বার্থ জড়িত থাকে। তাই যত দ্রুত সম্ভব ডাকসু নির্বাচন দেয়া উচিত। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতার কথা মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নিতে হবে।

১৯৯০ সালের ৬ জুলাই এর পর আর কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। তাই ডাকসু নির্বাচনের পদক্ষেপ নিতে ২০১২ সালের ১১ মার্চ ৩১ শিক্ষার্থীর পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রোক্টর ও ট্রেজারারকে লিগ্যাল নোটিশ দেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই নোটিশের কোনও জবাব না দেওয়ায় পরে ২৫ শিক্ষার্থীর পক্ষে রিট আবেদন করা হয়। এরপর একই বছরের ৮ এপ্রিল হাইকোর্ট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন করার ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

এরপর ২০১৮ সালের ১৭ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ব্যাপারে আদেশ দেন আদালত। ওই আদেশে ৬ মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন সম্পন্ন করতে বলা হয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। এছাড়া ডাকসু নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। এ সংক্রান্ত এক রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশনের বেঞ্চ এই রায় দেন। রিটে বিবাদী করা হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার ও প্রোক্টরকে । কিন্তু রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, ট্রেজারার ও প্রোক্টরকে নোটিশ প্রেরণ করেন রিটকারী আইনজীবী।