ডাক্তার মৃত ঘোষণার পরও হৃদস্পন্দন!

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:০৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০১৮ | আপডেট: ৬:০৩:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০১৮

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এ দিন সকালে দক্ষিণ কলকাতার একটি হাসপাতালের তরফে ঘোষণা করে দেওয়া হয়, পঙ্কজবাবু মারা গিয়েছেন। এর পর পঙ্কজবাবুকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের পারিবারিক চিকিৎসক তাঁকে পরীক্ষা করে জানান যে, পঙ্কজবাবুর হৃদস্পন্দন চলছে। এর পরেই ফের তাঁকে অন্য এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায় কোমায় রয়েছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়কে মৃত ঘোষণা করে হাসপাতাল তাঁর দেহ ছেড়ে দেওয়ায় বাংলার রাজনৈতিক শিবিরে শোকের ছায়া নেমেছিল। অরূপ বিশ্বাস, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সৌগত রায়-সহ একের পর এক তৃণমূল নেতা পঙ্কজবাবুর বাড়িতে পৌঁছেছিলেন। টুইটারে শোক প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শোকবার্তা প্রকাশ করেছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র, কংগ্রেস সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরীও। কিন্তু, পারিবারিক চিকিৎসক পঙ্কজবাবুকে পরীক্ষা করার পরেই ছবিটা বদলে যায়। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর টুইট ডিলিট করে দেন। পঙ্কজকে দ্রুত অন্য হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হয়।

বর্ষীয়ান রাজনীতিক পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে পশ্চিমবঙ্গে একটি অত্যন্ত পরিচিত নাম। রাজনৈতিক জীবনের অধিকাংশটাই কাটিয়েছেন কংগ্রেসে। বিধায়ক হিসাবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ছিলেন অত্যন্ত উজ্জ্বল মুখ। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে সাড়া দিয়ে তৃণমূলে যোগদান করেছিলেন পঙ্কজবাবু।

তৃণমূল তৈরি হওয়ার পরে প্রথম কয়েক বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বৃত্তে যে তিন-চার জন ছিলেন, তাঁদের অন্যতম ছিলেন এই প্রবীণ রাজনীতিক। ২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হন টালিগঞ্জ আসন থেকে। তৃণমূলের টিকিটে ওই এক বারই নির্বাচন লড়েছিলেন পঙ্কজ। সে বার রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলনেতাও হয়েছিলেন তিনি।

পরবর্তীতে অবশ্য তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক আর খুব একটা ভাল ছিল না পঙ্কজবাবুর। ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পঙ্কজকে আর টিকিটই দেয়নি তৃণমূল। অরূপ বিশ্বাস সে বার তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন টালিগঞ্জ থেকে। পঙ্কজ সেই থেকে আর কখনও ভোটে দাঁড়াননি। টালিগঞ্জ এলাকায় পঙ্কজ অনুগামীদের সঙ্গে অরূপ অনুগামীদের বিরোধও বেশ সুবিদিত ছিল।

সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার পরে পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায় কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। দীর্ঘ দিন ধরেই নানা রকম উপসর্গের চিকিৎসা চলছিল। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালটিতে সম্প্রতি গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন পঙ্কজবাবু। তাঁর অবস্থার ক্রমশ অবনতি হতে থাকে। বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাজ করা বন্ধ করে দেয়। হাসপাতাল জানায়, পঙ্কজবাবুর মৃত্যু হয়েছে। তার জেরেই বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল।