ড. কামাল সংবিধানের অনেক কিছুই অস্বীকার করছেন : আইনমন্ত্রী

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:২৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০১৮ | আপডেট: ৫:২৮:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০১৮

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হকে বলেছেন, ‘আমরা সংবিধান লঙ্ঘন করি না। বরং ড. কামাল হোসেন যে কনস্টিটিউশন ড্রাফটিং কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন তারা যে সংবিধান দিয়ে গেছেন তার অনেক কিছুই আজ তিনি অস্বীকার করছেন।’

রোববার রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

‘সরকার প্রতিদিন সংবিধান লঙ্ঘন করছে। এর জন্য বিচার হবে’-কামাল হোসেনের এমন বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, আমরা কোনো দিনই সংবিধান লঙ্ঘন করি নাই। আর সংবিধান লঙ্ঘন করার জন্য যদি কখনও আদালতে দাঁড়াতে হয় আমরা দাঁড়াব। কিন্তু আবারও বলছি, আমরা কখনওই সংবিধান লঙ্ঘন করি নাই। আমি কিন্তু বিজ্ঞ আইনজীবী ড. কামাল হোসেনকে সাত দফার ব্যাপারে অনেক শক্তভাবে জবাব দিতে পারতাম কিন্তু বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভ্যাস আমার নাই।’

ব্যারিস্টার মইনুলের জামিন নিয়ে ড. কামাল হোসেনের বক্তব্যের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলে। আমি বাধ্য হচ্ছি আজকে আইনটাকে পরিষ্কার করে দেয়ার জন্য। সেটা হচ্ছে এই, যদি অন্য জেলায় মামলা থাকে। তার মানে হচ্ছে মামলাটি অন্য টেরিটরিয়াল জুরিসডিকশনে। সেই জেলা থেকে যদি অন্য জেলায় কোনো আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়, তাহলে যে জেলায় তাকে হাজির করা হয়েছে সেই জেলার বিচারকের কিন্তু মামলাটা শোনার অধিকার নেই।’

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তার কারণ হচ্ছে, তার কাছে মামলার নথি নেই। সে কারণে তিনি দুটো কাজ করতে পারেন। একটা হচ্ছে, তিনি আসামিকে যেই কোর্টে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, সেখানে পাঠিয়ে দিতে পারেন অথবা তিনি বলতে পারেন মামলার নথি (ফাইলটা) তার কাছে পাঠানোর জন্য। তার জন্য একটা প্রক্রিয়া আছে। কিন্তু আসামিকে সেই কোর্টে পাঠানোটাই স্বাভাবিক। সে ক্ষেত্রে এখানে বিচারক তার বিচারিক অধিক্ষেত্র এবং অভিজ্ঞতা এবং ন্যায় বিচারের স্বার্থে তিনি যেই পদক্ষেপ নিয়েছেন সেইটা আইনসঙ্গত পদক্ষেপ বলে আমার কাছে মনে হয়েছে।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এটাও পরিষ্কার, দেখেন- বিচার বিভাগ কিন্তু স্বাধীন। যে যাই বলুক না কেন বিচার বিভাগ স্বাধীন। আমি প্রসিকিউশনকে আমার নির্দেশনা দিতে পারি। নির্দেশনাটা সব সময়ই আইনানুগ হতে হবে। প্রসিকিউশনের আইনজীবীরা সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আইনে যা আছে সে অনুযায়ী কিন্তু কাজ করবে। এক্ষেত্রে তার কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।’