তাহলে কে হচ্ছেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা?

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

প্রকাশিত: ৭:২২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৮ | আপডেট: ৭:২২:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৮
জাতীয় সংসদ ভবন। ফাইল ছবি

শেষ হয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে প্রায় প্রতিটি আসনেই বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়ে পুনরায় সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। শুধু তাই নয়, এবারের নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকার রেকর্ড গড়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত আওয়ামী লীগ।

নির্বাচনের পরে এখন সর্বোত্র আলোচনা চলছে সংসদে বিরোধী দল হচ্ছে কোন দল? আর কেই বা হচ্ছেন প্রধান বিরোধী দলনেতা।

যেহেতু জাতীয় পার্টি মহাজোটের অংশ, তাই আসন কম পেলেও ৭ জন সংসদ সদস্য নিয়ে বিএনপি বিরোধীদলের আসনে বসবে। নাকি একই সঙ্গে সরকারে এবং বিরোধী দলে থাকা জাতীয় পার্টিই আগের মতোই হচ্ছে সংসদে প্রধান বিরোধী দল। জাতীয় পার্টি বিরোধী দল হলে বিরোধীদলীয় নেতাই বা কে হচ্ছেন?

পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ? নাকি বর্তমান বিরোধী দলনেতা পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ?

এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির সিনিয়র পার্লামেন্টারিয়ান ও প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম এমপি বলেছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমাদের নির্বাচনী ঐক্য হয়েছিলো। কিছু আসনে তারা আমাদের ভোট দিয়েছে, কিছু আসনে আমরা তাদের ভোট দিয়েছি। এখন কিন্তু আর সেই ঐক্য নাই।

তবে হ্যাঁ এখন আমরা আলোচনা করতে পারি, সরকারে অংশ নেবো, নাকি বিরোধী দলে থাকবো। আমরা যদি চাই দু’টি অপশনেই খোলা আছে। জাপার বিরোধী দলের আসনে বসার ক্ষেত্রে কোনো আইনি জটিলতাও নেই বলে মন্তব্য করেন ফখরুল ইমাম এমপি।

২০১৪ সালে দশক সংসদ নির্বাচনের পরে এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এরশাদ প্রথমে স্ত্রী রওশনকে বিরোধী দলনেতা হওয়ার জন্য মত দেন। কিন্তু পরে আবার সেই সিদ্ধান্ত বদলে নিজেই বিরোধী দলনেতা হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ততদিনে রওশন এরশাদ বেশ শক্ত অবস্থানে চলে যান।

আবার জাতীয় পার্টির এমপিরা রওশনের পক্ষে একাট্টা থাকায় এরশাদের সেই আশা অপূর্ণই থেকে যায়। সেই সময়ে রওশনের পক্ষে একাট্টা থাকার অন্যতম কারণ ছিল- ওই নির্বাচন এরশাদ বর্জন করতে চেয়েছিলেন, আর রওশনের নেতৃত্বে জাপার নেতারা নির্বাচনে অংশ নেন। মাঝামাঝি সময়ে এসেও একবার বিরোধী দলনেতার চেয়ারে বসতে চেয়েছিলেন এরশাদ। কিন্তু সফল হননি।

এ নিয়ে তখন এরশাদ-রওশন দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছিল। সংসদ চলাকালীন এরশাদ বসতেন জাতীয় পার্টির সংসদীয় কার্যালয়ে, আর রওশন বসতেন বিরোধী দলনেতার কার্যালয়ে। একতলা ওপর নিচে অবস্থান হলেও তাদের মধ্যে দেখা-কথা বন্ধ ছিল। এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী এরশাদকে তার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেন। এবারের প্রেক্ষাপট অনেকটা ভিন্ন। এবার এরশাদ-রওশনের মধ্যে খুব একটা মতপার্থক্য নেই।

অন্যদিকে অ্যাড. সিরাজ উদ্দিন বলেন, সংবিধানে বিরোধী দলের আসন সংখ্যার কোনো বিধিনিষেধ নেই। সরকার গঠনে অর্ধেকের বেশি আসন দরকার হয়। আর আসন সংখ্যার দিক থেকে সরকারি দলের পরেই যে দলের অবস্থান থাকবে তারাই বিরোধীদল হবে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে কে হচ্ছেন প্রধান বিরোধী দলনেতা। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নাকি সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বর্তমান বিরোধী দলনেতা রওশন এরশাদ। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পরে এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিলো। এরশাদ প্রথমে স্ত্রী রওশনকে বিরোধী দলনেতা হওয়ার জন্য মত দেন। কিন্তু পরে আবার সেই সিদ্ধান্ত বদলে নিজেই বিরোধী দলনেতা হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

কিন্তু ততদিনে রওশন এরশাদ বাগড়া দিয়ে বসেন। আবার জাতীয় পার্টির এমপিরা রওশনের পক্ষে একাট্টা থাকায় এরশাদের সেই আশা অপূর্ণ থেকে যায়। সেই সময়ে রওশনের পক্ষে একাট্টা থাকার অন্যতম কারণ ছিলো- ওই নির্বাচন এরশাদ বর্জন করতে চেয়েছিলেন, আর রওশনের নেতৃত্বে জাপার নেতারা নির্বাচনে অংশ নেয়। মাঝামাঝি সময়েও এসে একবার বিরোধী দলনেতার চেয়ারে বসতে চেয়েছিলেন এরশাদ। কিন্তু সফল হননি।

এ নিয়ে তখন এরশাদ-রওশন দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছিলো। সংসদ চলাকালীন সময়ে এরশাদ বসতেন জাতীয় পার্টির সংসদীয় কার্যালয়ে, আর রওশন বসতেন বিরোধী দলনেতার কার্যালয়ে। এক তলা ওপর নিচে অবস্থান হলেও তাদের মধ্যে দেখা কথা বলা বন্ধ ছিলো। এবারের প্রেক্ষাপট অনেকটা ভিন্ন। এবার এরশাদ-রওশনের মধ্যে খুব একটা মতপার্থক্য নেই।

এ বিষয়ে ফখরুল ইমাম বলেন, আমার মনে হয় ম্যাডামই (রওশন এরশাদ) বিরোধী দলনেতা হবেন। যেহেতু স্যারের (এরশাদ) শরীরটা অনেক খারাপ। আপনারা দেখেছেন, তিনি নির্বাচনী ক্যাম্পেইনেও অংশ নিতে পারেননি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বচানের প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, ২৯৯ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ২৫৭টি। ২২টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাতীয় পার্টি। বিএনপি ৫টি আসন ও অন্যান্যরা ১৩টি আসনে জয় লাভ করেছে। সে হিসাবে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল হওয়ার মতো আসন পেয়েছে জাতীয় পার্টি।

২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ পায় ২৩৪টি, জাতীয় পার্টি ৩৪টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ৬টি, জাসদ ৫টি, জাপা (মঞ্জু) ২টি, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ২টি, বাংলাদেশ জাতীয়বাদী ফ্রন্ট (বিএনএফ) ১টি ও স্বতন্ত্র ১৫টি আসনে বিজয়ী হয়।