‘তুই’ বলায় নুরুলকে কুপিয়ে হত্যা করে কিশোর গ্যাং ‘ভাই-ব্রাদার্স’ গ্রুপ

প্রকাশিত: ৬:১৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯ | আপডেট: ৬:১৩:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

গাজীপুর মহানগরের রাজদীঘিরপাড় এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্ধে কিশোর নুরুল ইসলাম ওরফে নুরু (১৬) খুনের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তারা হলো, মো. রাসেল মিয়া (১৮), মো. সৌরভ (২১), মো. আশরাফুল ইসলাম (১৭), মো. জোবায়ের (১৭), মো. আমির হামজা (১৯) ও মো. সুজন পাটোয়ারি (১৭)।

এ সময় তাদের কাছ থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দুটি চাপাতি ও একটি ছোরা উদ্ধার এবং ৫টি মোবাইল ফোন ও নগদ ৮ হাজার ২০ টাকা জব্দ করা হয়েছে। তারা গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাস করেন। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব-১ এর গাজীপুরের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার দুপুরে জানান, গত ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে ‘তুই’ বলাকে কেন্দ্র করে মেট্রো সদর থানাধীন রাজদীঘিরপাড় এলাকায় দুই কিশোর গ্যাং গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে স্থানীয় ফকির আলমগীরের ছেলে নুরুল ইসলাম ওরফে নুরু খুন হয়।

ঘটনার দুদিন আগে ভিকটিম নুরুল ইসলামের ‘দীঘিরপাড়’ গ্রুপের ছয়-সাত সদস্য স্থানীয় বালুর মাঠ এলাকায় আড্ডা দেয়ার সময় একই এলাকার রাসেলের ‘ভাই-ব্রাদার্স’ গ্রুপের সঙ্গে বাগবিতন্ডায় লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়।

জুনিয়র গ্রুপের কাছে লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় রাসেলের ‘ভাই-ব্রাদার্স’ গ্রুপের সদস্যরা প্রতিশোধ নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে এবং উপযুক্ত সুযোগ খুঁজতে থাকে। ঘটনার দিন ‘ভাই-ব্রাদার্স’ গ্রুপের ১০-১২ জন মিলে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ‘দীঘিরপাড়’ গ্রুপের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।

এ সময় নুরুল ইসলাম তাদের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য পাশের পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়ে ও অন্যরা পালিয়ে যায়। ‘ভাই-ব্রাদার্স’ গ্রুপের সদস্যরা অন্যদের ধরতে না পেরে নুরুল ইসলামকে পুকুর থেকে তুলে ধারালো চাপাতি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে গাজীপুর সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।

তিনি নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে জানায়, ভিকটিম নুরুল ইসলাম পিতা-মাতার ৩ জন সন্তানের মধ্যে সবার বড় ও তার ছোট দুই বোন আছে। ভিকটিমের পিতা ফকির আলী পেশায় একজন পাখি বিক্রেতা ও মাতা গৃহিনী। ফকির আলীর একার উপার্জনে পাঁচ জনের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন।

তাই পিতার বোঁঝা অনেকটা হালকা করতে ভিকটিম নুরুল ইসলাম পড়ালেখা বন্ধ করে ফেরি করে চা বিক্রি শুরু করে এবং সংসারে অর্থের যোগান দিতে থাকে। ঘটনার দিন আনুমানিক ২টার দিকে দুপুরে খাবারের পর ভিকটিম পাশ্ববর্তী রাজ দীঘির পাড়ে যায়।

সেখানে পূর্বে থেকে ওৎ পেতে থাকা সাহাপাড়ার “ভাই-ব্রাদারস” গ্রুপের বেশ কয়েকজন সদস্য ভিকটিমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে গুরুতর জখম করে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন ভিকটিমকে শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করে। একমাত্র পুত্র সন্তানকে হারিয়ে ভিকটিমের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে।