ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর ঈদুল আজহা আজ

প্রকাশিত: ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০২১ | আপডেট: ১০:২৭:পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০২১

ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা আজ। বিশ্বের মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। চলমান মহামারির প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। সংগতকারণেই এবারও ঈদে আনন্দের স্বাভাবিক উচ্ছ্বাসটা কম।

দু’শ্চিন্তা আর অনিশ্চয়তা নিয়ে মসজিদে মসজিদে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা। ঈদের দুই রাকাত নামাজ শেষে মোনাজাতে আল্লাহর কাছে দুই হাত তুলে মহামারি করোনা থেকে মুক্তির ফরিয়াদ জানিয়েছেন তারা।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান ও প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৭টায়। নামাজ শেষে মোনাজাতে করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি এবং অসুস্থদের সুস্থতার জন্য দোয়া করা হয়।

জামাতের আগে খুতবা ও বয়ানে কোরবানির তাৎপর্য তুলে ধরা হয়। নামাজ শেষে করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি, দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করেন ইমাম। একইভাবে করোনা থেকে মুক্তির জন্য প্রার্থনা করা হয় রাজধানীর অন্যসব জামাতেও।

করোনা মহামারি থেকে মুক্তির জন্য ঈদের জামাতে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করা হয় ঢাকার বাইরে দেশের অন্যান্য জামাতেও। রাজশাহীতে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে ৭টায় হজরত শাহ মখদুম (রহ.) কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে। এতে ইমামতি করেন মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মুফতি হাফেজ মাওলানা মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এখানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতাসহ সাধারণ মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করেন।

ঈদের প্রধান জামাতে দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে দেশ ও জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ-শান্তি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় দেশ ও জাতির স্বার্থে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য রক্ষার ডাক দেওয়া হয়। আহ্বান জানানো হয় সন্ত্রাসবাদ পরিহারের। এছাড়া ঈদুল আজহার প্রধান জামাতে বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বে চলমান করোনা মহামারি থেকে মুক্তির জন্য মহান আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানানো হয়।

এছাড়া একই সময় রাজশাহী মহানগরের ২৩৯টি মসজিদে ও জেলার নয়টি উপজেলার শতাধিক মসজিদে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার রাজশাহীর কোনো ঈদগাহে বা খোলা স্থানে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়নি। সবাই বাড়ি থেকে ওজু করে মুখে মাস্ক পড়ে নিজ নিজ জায়নামাজ নিয়ে মসজিদে গিয়ে ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করেন। করোনার কারণে ঈদ জামাত শেষে কোলাকুলি ও হাত মেলোনা থেকে বিরত থাকেন মুসল্লিরা।

ঈদের নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর দরবারে প্রয়াত পিতা-মাতা ও স্বজনদের রুহের মাগফেরাত কামনার জন্য বিভিন্ন গোরস্থানে যান এবং কবর জিয়ারত করেন।

ঈদুল আজহা সামনে রেখে সরকার একসপ্তাহের জন্য বিধিনিষেধ শিথিল করলেও অবশ্য একদিন আবার কঠোর লকডাউন কার্যকর হবে। সামনে সংক্রমণ পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, সেই শঙ্কা নিয়েই বুধবার পালিত হচ্ছে ঈদুল আজহা।

করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের মতো ঈদুল আজহাতেও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঈদের জামাত শেষে কোলাকুলি ও হাত মেলানো থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে সরকার নির্ধারিত স্থানে কোরবানি করে এবং কোরবানির বর্জ্য যথাস্থানে ফেলে পরিবেশদূষণ বন্ধে সবাই সচেষ্ট থাকবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে ঈদুল আজহার মর্মবাণী অন্তরে ধারণ করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনকল্যাণমূলক কাজে অংশ নিয়ে বৈষম্যহীন, সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে ঈদুল আজহায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজ আদায় ও পশু কোরবানি দেওয়ার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, করোনা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে আছে গোটা দেশে। এসময় স্বাস্ত্যবিধি ও সাবধানতা অবলম্বন করা না হলে দেশে সংক্রমণের হারে আরও বেড়ে যেতে পারে। এতে মহামারি পরিস্থিতি হয়ে ওঠবে ভয়াবহ, করোনা সংক্রমণ চলে যাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে।