ত্রাণ আত্মসাতের অভিযোগে চেয়ারম্যানের বাড়ি ঘেরাও, বিক্ষোভ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৫, ২০২০ | আপডেট: ১১:২৭:পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৫, ২০২০

করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া সুবিধাবঞ্চিতদের নামে বরাদ্দকৃত সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে শাহজাদপুর উপজেলার ১০ নং কৈজুরী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ত্রাণ বঞ্চিত গ্রামবাসী ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদ ভাঙ্গিয়ে এলাকায় যা ইচ্ছে তাই করছে চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম।

যার কারণে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লকডাউন ভেঙ্গে বিক্ষোভ করে তার বাড়ি ঘেরাও করে। পরে পুলিশ এসে বিক্ষোভ কারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এ ঘটনা জানার পর ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুলের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে বের হয়ে পাথালিয়াপাড়া গ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা ও কৃষকলীগ নেতাসহ ৩ বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করে। এ ঘটনায় মহিলাসহ ২ জন আহত। আহতরা হলেন মো: সজিব হোসেন(৩৫) ও মাকসুদা খাতুন (২০)।

এ বিষয়ে কৈজুরী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুনুর রশিদ এই প্রতিনিধিকে বলেন,’জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মহামারী দুর্যোগ করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া একটি পরিবার ও যেন সরকারী সহযোগীতা থেকে বঞ্চিত না হয়।

কিন্তু স্থানীয় চেয়ারম্যান শুরু থেকেই বিএনপি, জামাত ও আওয়ামী লীগ ভেদাভেদ করে শুধু আওয়ামী লীগের কিছু লোককে নাম মাত্র ফটোসেশন করে ত্রাণ দিয়ে চলে যায়। বাকি সরকারি চাল আত্নসাৎ করেছেন।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল আলম বলেন, ’স্থানীয় সংসদ সদস্য ত্রাণ বিতরনে আন্তরিক হলেও কৈজুরী ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত চাল বার বার আত্নাসাৎ করছে স্থানীয় চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম।

কৈজুরী গ্রামের তাত শ্রমিক শাহজাহান বলেন, আমি চেয়ারম্যানের পিছনে তিন দিন ঘুরে একটা স্লিপ পেয়েছিলাম।

কিন্তু চেয়ারম্যান ঐদিন কয়েকজনকে চাল দিয়ে বন্ধ করে দেয়। আমি আর চাল পাইনি। আমার মতো আরো ৪০/৫০ জন স্লিপ নিয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরে যায়।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, এই ইউনিয়নের বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান কায়েম উদ্দিন তার দলীয় লোকজন নিয়ে আমার বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র করছে।

তার সঙ্গে কৈজুরী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুনুর রশিদ বার বার আমার কাছ থেকে স্লিপ নিয়েছে এবং সমন্বয় করেছে।

কিন্তু আজ সে নিজেই তাদের সাথে যোগ দিয়ে আমারকে হেস্ত নেস্ত করার চেষ্টা করছে। এখন পর্যন্ত যে ত্রাণ পেয়েছি তা যথাযথ ভাবে ট্যাগ অফিসারকে সাথে রেখে বিতরণ করেছি। আগামীতে যা আসবে আমি তা সকলের ঘরে ঘরে গিয়ে পৌঁছে দেবো।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, শুনেছি ত্রাণের দাবিতে কিছু উশৃঙ্খল লোক বিক্ষোভের চেষ্টা করে। আমাদের যাওয়ার কথা শুনে তারা পালিয়েছে। হামলা ও বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনা ঘটেনি।