দলীয় পদও হারাচ্ছেন খালেদা-তারেক!

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১, ২০১৮ | আপডেট: ১০:৫৮:পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১, ২০১৮
সংগৃহীত

দলটির সংশোধিত গঠনতন্ত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দাখিল করা এক রিট আবেদনে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ নির্দেশ দিয়ে রিটটি ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির আদেশ দেন।

এ আদেশের ফলে একাধিক মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের যথাক্রমে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে থাকা অনিশ্চিত হয়ে পড়ল।
দণ্ডিত বা দুর্নীতিপরায়ণ কোনো ব্যক্তি বিএনপির কোনো পদে থাকতে পারবেন না—এমন বিধান বাতিল করে দলটি যে সংশোধিত গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করেছে, তা গ্রহণ না করতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।





উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার যথাক্রমে ১০ ও সাত বছর কারাদণ্ড আর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও একটি অর্থপাচার মামলায় তারেক রহমানের যথাক্রমে যাবজ্জীবন ও সাত বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশটি যথাযথ হয়েছে বলে মনে করি। কারণ আমাদের সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নৈতিক স্খলনজনিত কারণে যদি কারো দুই বছরের বেশি সাজা হয়, তাহলে সাজা ভোগ করার পর আরো পাঁচ বছর তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।’

আইনজীবীরা বলছেন, হাইকোর্টের এ নির্দেশ মানতে বাধ্য ইসি। ফলে ইসি বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করলে বা বাতিল করে দিলে বিএনপির কোনো কমিটিতে দণ্ডিত কোনো ব্যক্তি থাকতে পারবেন না।





আর এ কারণেই বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলটির কোনো পদে থাকতে পারবেন না বলে অভিমত আইন বিশেষজ্ঞদের।

তাঁরা বলছেন, হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে বিএনপির। বিএনপি যদি আপিল করে এবং আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন, সে ক্ষেত্রে খালেদা জিয়া বা তারেক রহমানের দলের শীর্ষ পদে থাকতে কোনো সমস্যা হবে না।





আর যদি দলটি কোনো স্থগিতাদেশ না পায়, তবে তাঁরা পদে থাকতে পারবেন না। আইনজ্ঞরা বলছেন, সংবিধান অনুযায়ী নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দুই বছরের বেশি সাজাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি নির্বাচনের অযোগ্য। এ কারণেই দণ্ডিত কোনো ব্যক্তির বিএনপির পদে রাখার উদ্দেশ্যে দলটির গঠনতন্ত্রে সংশোধনী আনা দেশের সংবিধানের পরিপন্থী।

তিনি বলেন, ‘দেশের সর্বোচ্চ আইন হলো সংবিধান। দেশের সংবিধানে যেখানে দণ্ডিত ব্যক্তিকে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানে একটি বড় রাজনৈতিক দলের পদে কিভাবে দুর্নীতিবাজ বা সাজাপ্রাপ্তরা থাকতে পারেন, তা বোধগম্য নয়।

এটা নৈতিকতা পরিপন্থী। দুর্নীতিবাজদের রাখার জন্য কোনো রাজনৈতিক দল হতে পারে না। এ কারণেই মনে করি, হাইকোর্ট যথাযথ আদেশ দিয়েছেন। তবে এ আদেশের বিরুদ্ধে নিশ্চয়ই বিএনপি বা সংক্ষুব্ধ পক্ষ আপিল বিভাগে যাবে। আর আপিল বিভাগ যদি হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন, তবে পদে থাকতে বাধা থাকবে না।’