দুইশ বছরের পুরোনো মৃৎশিল্পকে আঁকড়ে ধরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে দেলদুয়ারের মৃৎশিল্পীরা

প্রকাশিত: ৪:২৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১২, ২০১৯ | আপডেট: ৪:২৮:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১২, ২০১৯
ছবি:টিবিটি

খালিদ হোসেন ছিদ্দিকী, টাঙ্গাইল (দেলদুয়ার) প্রতিনিধি : একবিংশ শতাব্দীর এই ডিজিটাল বাংলাদেশে প্লাস্টিক, সিলভার, সিরামিক, স্টীলসহ অত্যাধুনিক সব শিল্পের আবির্ভাবে বিলিন হতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প। একসময় বাংলার ঘরে ঘরে দেখা মিলত মাটির তৈরী তৈজসপত্র। এখানো পহেলা বৈশাখে পান্তা ইলিশের সাথে দেখা মেলে হারিয়ে যাওয়া বাংলার সেই সানকি, ঘটি, বাটির।

পহেলা বৈশাখ মনে করিয়ে দেয় আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্যকে। টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার নলখি পালপাড়া গ্রাম। গ্রামের কয়েশ পরিবার এখনো জীবন জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হিসেবে ধরে রেখেছে বাপ দাদার পুরোনো পেশা। প্রায় দুইশ বছরের পুরোনো মৃৎশিল্পকে আঁকড়ে ধরে অনেকটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে তারা।

বর্তমানে শিল্পায়নের কারণে কেউ আর মাটির তৈজসপত্র ব্যবহার না করলেও হতাশ নন এই গ্রামের মৃৎশিল্পীরা। মূল পেশাকে ঠিক রেখে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এখনও কর্মোদ্যোম গ্রামের প্রতিটি পরিবার। ভোর থেকে পরিবারের সবাই কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। হাড়ি পাতিল সহ তারা তৈরী করছে বিভিন্ন শো-পিচ, ফুলদানী, ফুলের টব, মাটির তৈরী খেলনা, মাটির গহনা।

হাতে গোনা কয়েকজন মহাজন স্বল্পমূলে এসব পণ্য কিনে বিক্রি করেন ঢাকার বিভিন্ন শোরুমে। এছাড়া অন্যান্য সকল পণ্যই ফেরী করে গ্রামে গ্রামে বিক্রি করতে দেখা যায়। তবে অন্যান্য তৈজসপত্রের তুলনায় মাটির তৈরী স্যানেটারী পাটের বেশ চাহিদা রয়েছে। তাই এই স্যানেটারী পাট তারা বেশি তৈরী করেন বলে জানা যায়। প্রতিটি পাট ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়।

এই সব পণ্য বিক্রি করে যতটুকু উপার্জন তা দিয়েই চলে সংসার, ছেলে মেয়ের পড়াশুনা। তবে প্রতিটি পরিবারের সন্তানদের পড়াশোনার পাশাপাশি পৈত্রিক এই পেশায় সহযোগিতা করতে দেখা যায়। দেলদুয়ার উপজেলায় শুধু নলখি পালপাড়াই নয় বরং দেউলী, গোমজানী, বাথুলী গ্রামেরও প্রায় কয়েকশ পরিবার এই পেশায় জড়িত।

এই পেশায় জড়িত প্রতিটি কারিগরদের সাথে কথা বলে জানা যায় ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প আজ হুমকীর মূখে। তাছাড়া সরকারী বেসরকারী কোন পৃষ্টপোষকতা না থাকায় অনেকটাই হতাশ মৃৎশিল্পী তথা কারিগরেরা। এই শিল্পের সাথে জড়িতরা মনে করেন সরকারী বেসরকারী উদ্যোগতারা এগিয়ে আসলে এখনও বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই মৃৎশিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব। স্বাবলম্বী হয়ে শুধু দেশেই নয় বরং অর্জন করা সম্ভব আন্তর্জাতিক মর্যাদাসহ বৈদেশিক মুদ্রা।