দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার ‘সাজা’ বিশ্ব গণমাধ্যমে

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০১৮ | আপডেট: ১১:২৯:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০১৮
ছবিঃ সংগৃহিত

টিবিটি সারাবিশ্বঃবাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে দুর্নীতি মামলায় ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৯ অক্টোবর) ৫ নাম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এ রায় দেন। খালেদা জিয়ার সাথে এই মামলার অন্য তিন আসামিকে একই সাজা ও প্রত্যেক আসামিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম আল-জাজিরা, রয়টার্স, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, ডয়েচে ভেলে, নিউজফার্স্ট, এনডিটিভি, আনন্দবাজারসহ গুলো গুরুত্বসহকারে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার এই রায় প্রকাশ করেছে।

আল-জাজিরায় প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় চ্যারিটেবল ট্রাস্টের জন্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা) তহবিল সংগ্রহে খালেদা জিয়া ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন।

এই অভিযোগে খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের সাজা দেয় আদালত। তবে খালেদার সমর্থকরা এই রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

রয়টার্স জানায়, নতুন দুর্নীতি মামলায় সাজা পাওয়ায় খালেদা জিয়াকে আরও অতিরিক্ত দুবছর জেল খাটতে হবে। কারণ অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া ইতোমধ্যে পাঁচ বছরের সাজা পেয়েছেন। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার দুর্নীতি ঘটে বলে মামলার রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী জানান।

খালেদা জিয়ার ‘সাজা’ বিশ্ব গণমাধ্যমের শিরোনাম
ডয়েচে ভেলের সংবাদে জানানো হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থের নিয়মবহির্ভূত ব্যবহারের জন্য ৭৩ বছর বয়ষ্ক খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন বাংলাদেশের বিশেষ আদালত। রায় ঘোষণার সময় খালেদা জিয়া আদালতে ছিলেন না। তিনি হসপিটালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এপির সংবাদসূত্রে প্রতিবেদন প্রকাশ করে বলে, প্রয়াত স্বামীর নামে করা ট্রাস্টের দুর্নীতে মামলায় খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। খালেদা জিয়ার সমর্থকরা দাবি করছেন, ডিসেম্বরে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে খালেদার দলকে দুর্বল করতে চেষ্টা করছে সরকার।

এনডিটিভি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বচ্ছ এই বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া তার প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ হাসিনার চেয়ে অনেকটা পিছিয়ে গেলেন। চলতি মাসেই তার বড় ছেলে তারেক রহমানকে গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

শ্রীলংকার নিউজ ফার্স্ট জানায়, বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।

খালেদা জিয়ার ‘সাজা’ বিশ্ব গণমাধ্যমের শিরোনাম
ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের শীর্ষে স্থান দিয়েছে খালেদা জিয়ার মামলার রায়টিকে। পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলায় খালেদা জিয়াসহ তার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন ব্যক্তিগত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ-র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রাক্তন মেয়র বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার ব্যক্তিগত সচিব মনিরুল ইসলাম খানকে সাজা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, ট্রাস্টের নামে ৪২ কাঠা জমি কেনায় অনিয়ম করা হয়েছে বলে জানায় আদালত। ট্রাস্টের প্রথম ট্রাস্টি খালেদা জিয়া নিজে ও ট্রাস্টের সদস্য তাঁর দুই ছেলে তারেক এবং আরাফাত রহমান।