দূর থেকেই করোনা রোগীদের হৃদস্পন্দন শুনতে ‘স্মার্ট স্টেথোস্কোপ’ তৈরী!

প্রকাশিত: ৮:৪০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০২০ | আপডেট: ৮:৪০:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০২০

গোটা বিশ্বকে এখন করোনা আতঙ্ক গ্রাস করেছে। এই ভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হল, এখনও পর্যন্ত এই ভাইরাসের কোনও টিকা বা ওষুধ আবিষ্কার করা যায়নি। এখনও এই বিষয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। তাই পরীক্ষামূলক বিকল্প চিকিত্সা পদ্ধতি আর আগাম সতর্কতা আর পরিচ্ছন্নতার উপরেই ভরসা রাখছেন চিকিত্সক, বিশেষজ্ঞ থেকে আম জনতা।

ভারতের আইআইটি-র মতো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি করোনার মোকাবেলায় নিয়মিত তাদের উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগাচ্ছে। সম্প্রতি, আইআইটি-বোম্বাইয়ের এক গবেষকদল আবিষ্কার করেছেন একটি স্মার্ট স্টেথোস্কোপ। এর সাহায্যে নিকটবর্তী করোনায় আক্রান্ত কোনও ব্যক্তির হার্ট রেট বা শব্দটি দূর থেকে শনাক্ত করা এবং এটি রেকর্ডও করতেও সক্ষম।

এই স্মার্ট স্টেথোস্কোপ এর সুবিধাটি হল চিকিত্সকরা সংক্রামিত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবেন। স্মার্ট স্টেথোস্কোপের সাহায্যে রোগীর বুকের অ্যাসক্ল্যাটেড সাউন্ড এবং ডেটা ব্লুটুথের সাহায্যে ডাক্তারের কাছে পৌঁছে যাবে, যাতে তাদের রোগীদের কাছাকাছি যেতে না হয়। ফলে কোনও রোগীর শরীরে করোনাভাইরাস থাকলেও তা চিকিৎসকের শরীরে সংক্রমিত হতে পারবে না।

বম্বে-আইআইটি পড়ুয়াদের তৈরি এই স্মার্ট স্টেথোস্কোপ রোগীর হৃদস্পন্দনের ‘অ্যাসক্ল্যাটেড সাউন্ড’ এবং সে সংক্রান্ত তথ্য ব্লুটুথের সাহায্যে চিকিৎসকের কাছে থাকা স্মার্ট ডিভাইসে পৌঁছে দেবে। ফলে কোনও চিকিৎসক রোগীর কাছাকাছি না গিয়েও তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির সম্পর্কে একটা ধারণা অনায়াসেই করতে পারবেন।

এই স্মার্ট স্টেথোস্কোপের বিশেষত্ব হল, অনেকগুলি শব্দকে ফিল্টার করে হৃদস্পন্দনের শব্দকে বৈদ্যুতিন সংকেতে রূপান্তরিত করতে সক্ষম। শুধু তাই নয়, হৃদস্পন্দনের শব্দকে বৈদ্যুতিন সংকেতে রূপান্তরিত করার পর এটিকে স্মার্টফোন এবং ল্যাপটপে ফোনের কার্ডিওগ্রাম হিসাবে দেখা যাবে। ফলে চিকিৎসকরা এই স্মার্ট স্টেথোস্কোপকে কাজে লাগিয়ে করোনা আক্রান্তের কাছে না পৌঁছেই তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে পারবেন সহজেই।

ইতিমধ্যেই এই স্মার্ট স্টেথোস্কোপের পেটেন্ট পেয়েছেন বম্বে-আইআইটি পড়ুয়ারা। এটি রিলায়েন্স হাসপাতাল এবং পিডি হিন্দুজা হাসপাতালের চিকিত্সকদের থেকে পরামর্শ নিয়েই তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রায় ১,০০০ ইউনিট স্টেথোস্কোপ সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।