দেশের সূর্য সন্তানের বসবাস এখন হাঁস-মোরগের ঘরে!

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১, ২০১৮ | আপডেট: ১০:২৬:পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১, ২০১৮
ছবিঃ সংগৃহিত

টিবিটি দেশজুড়েঃ তালেব আলী জন্ম সিলেটের বিশ্বনাথে। দেশের এ বীর সূর্য সন্তান জীবনের শেষ বয়সে এসে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বর্তমানে হাঁস-মোরগের ঘরে ঠাঁই হয়েছে এ মুক্তিযোদ্ধার।

তালেব আলী উপজেলার সদর ইউনিয়নের তাতিকোনা গ্রামের মৃত ইছব আলীর ছেলে । বর্তমানে তিনি বড় ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে অনেকটা নিঃস্ব জীবন-যাপন করছেন। কেউ খবর রাখছে না এই মুক্তিযোদ্ধার।





স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তাতিকোনা গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা তালেব আলীর জন্ম ১৯৩২ সালের ১২ মে (জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী) । মহান মুক্তিসংগ্রামে ২৮ বছর বয়সে তিনি দেশমাতৃকার টানে ঝাঁপিয়ে পড়েন । মীর শওকত আলীর নেতৃত্বাধীন ৫নং সেক্টরের ভোলাগঞ্জ হতে ছাতক পর্যন্ত অঞ্চলে যুদ্ধ করেন। তার মুক্তিবার্তা নং ০৫০১০৯০০৩২। গেজেট নং ১৪৬৩।

সরেজমিনে এই মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, বড় ভাই তৈয়ব আলীর পাকা বসতঘরের একটি নোংরা ও দুর্গন্ধময় কক্ষে ময়লা বিছানায় শুয়ে আছেন তালেব আলী। যে কক্ষটিকে হাঁস-মোরগের বাসস্থান হিসেবেই ব্যবহার করা হয়। সালাম দিতেই বহু কষ্টে উঠে বসলেন। কথা হলো স্ত্রী-সন্তানহীন জাতির এই সূর্যসন্তানের সঙ্গে।





তিনি জানান, আগে বাড়ির পূর্ব দিকের একটি ঘরে বসবাস করতাম। একবার ডাকাতের কবলে পড়ে ভয়ে বড় ভাইয়ের বসত ঘরে চলে আসি।

হাঁস-মোরগের ঘরে কেন? -এমন প্রশ্নে তালেব আলী বলেন, আর কোনো কক্ষ খালি না থাকায় আমিই স্বেচ্ছায় এই ঘরটিকে বেছে নিয়েছি। নিজের একটি ঘরের জন্য অনেকের কাছে ছুটে গিয়েছি। কোনো সাড়া পাইনি। আমার নিজস্ব জায়গা আছে। সরকার যদি সেখানে একটি ঘর নির্মাণ করে দিত, তাহলে শেষ বয়সে অন্তত নিজের ঘরে বসবাস করতে পারতাম।





বড় ভাই তৈয়্যব আলী জানান, তালেব আলী জোর করেই ওই ঘরে থাকছেন। তবে, তারা তাকে ঠিকমতোই দেখাশোনা করছেন বলে জানান। মুক্তিযুদ্ধ শেষে বাড়িতে ফিরে দুবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেও টিকেনি তার সংসার।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ওয়াহিদ আলী বলেন, বড় ভাইয়ের পাকা বসতঘরে তো তালেব আলীর জায়গা এ ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।