ধর্ষকদের মামলায় বিপাকে নির্যাতিতার পরিবার!

মরার উপর খাড়ার ঘা

প্রকাশিত: ৬:৪৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮ | আপডেট: ৬:৪৫:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে শিশু নুশরাতকে ধর্ষণ শেষে হত্যা মামলার কোন সুরাহা না হতেই এবার উল্টো একটি লুটপাটের মামলা দেয়া হয়েছে তার পরিবারের বিরুদ্ধে। ধর্ষকপক্ষের এ মামলার পর নুশরাতের বাবা এরশাদ হোসেন এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্রের ইন্ধনে হত্যা মামলা থেকে রেহাই পেতে ঘাতকরা এই নাটক শুরু করেছে। মূল ঘটনাকে আড়াল করে ঘাতকদের রক্ষায় চক্রটি নুশরাতের পরিবারকে চাপে রেখে বিশেষ সুবিধা আদায়ে তৎপর হয়ে উঠেছে। অথচ সন্তান হারিয়ে যেখানে মা রেহানা বেগম ও বাবা এরশাদ হোসেন পাগল প্রায়। এরই মধ্যে সাজানো আরেকটি মামলা এখন মরার উপর খরার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা যায়, গত ১ আগস্ট ধর্ষক ও ঘাতক রুবেলের পিতা সিরাজুল ইসলাম লুটপাটকৃত ১৫ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের দাবিতে নিহত নুশরাতের পিতা মোঃ এরশাদ হোসেনকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর জুডিশিয়াল আমলী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং-সিআর ২১৯/১৮।

পরে আদালত রামগঞ্জ থানার ওসিকে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। তার আলোকে রামগঞ্জ থানার এসআই মোঃ তাজুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নুশরাতের পরিবারের মধ্যে আহাজারি চরম আকার ধারণ করে। মেয়ে হারানোর শোক সেরে না উঠতেই এভাবে উল্টো মিথ্যে মামলার আসামি হওয়ার খবরে উপজেলাব্যাপী সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ ও লোকজনের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া মিথ্যে মামলা প্রত্যাহারের দাবি উঠেছে বিভিন্ন স্তর থেকেই।

লুটপাট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তাজুল ইসলাম জানান, লক্ষ্মীপুর আদালতে একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলার এজাহারের কপি হাতে পেয়ে তদন্তের জন্য আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।

রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আকম রুহুল আমিন জানান, ধর্ষণ শেষে শিশু নুশরাতকে হত্যা করা হয়েছে। এটা দেশব্যাপী আলোচিত বিষয়। উত্তেজিত লোকজনরাই ঘটনার দিন ধর্ষক রুবেলের বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে। আর যেহেতু বিষয়টি বিচারাধীন সেখানে নুশরাতের বাবার বিরুদ্ধে লুটপাটের মামলা অত্যন্ত দুঃখজনক।

লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ শাহাদাত হোসেন শরীফ জানান, নুশরাত হত্যার পর থেকে জেলা উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ নুশরাতের পরিবারের পাশে থেকে সান্ত্বনা দিয়ে আসছে। আর নুশরাতের বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে লুটপাটের মামলা করায় দলের পক্ষ থেকে তিনি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। অবিলম্বে এ মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানান তিনি।

উলে­খ্য, চলতি বছরের ২৩ মার্চ শুক্রবার দুপুরে রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের নোয়াগাঁও নজুমুদ্দিন বাড়ীর (কালু মেস্তুরির বাড়ির) প্রবাসী এরশাদ হোসেনের মেয়ে ও স্থানীয় পশ্চিম নোয়াগাঁও ফয়েজুল রাসূল সুন্নিয়া মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নুশরাত জাহান (৭) বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়।