ধর্ষণ, লুকিয়ে স্নানের ভিডিও ধারণ… কী করেননি স্বামী চিন্ময়ানন্দ!

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:৪০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯ | আপডেট: ৫:৪০:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি’র বর্ষীয়াণ নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্বামী চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করেছেন উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরের এক কলেজ ছাত্রী। ওই ছাত্রী পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটকে জানিয়েছেন, টানা প্রায় এক বছর ধরে তাঁকে যৌন নির্যাতন করেছেন স্বামী চিন্ময়ানন্দ।

এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিং টিম ১৫ ঘণ্টা ধরে জেরা করেছে ওই ছাত্রীকে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য মতে, ওই তরুণী অভিযোগ, এক বছর ধরে তাকে ধর্ষণ করেছে ওই রাজনীতিবিদ। ওই নেতা বহু আশ্রম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালান। ৭৩ বছরের চিন্ময়ানন্দের সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাৎ গত বছরের জুন মাসে। সেই সময় তিনি শাহজাহানপুরের সেই কল‌েজে আইন পড়ার জন্য ভর্তি হন, যে কলেজ পরিচালনা করেন চিন্ময়ানন্দ। তিনি জানান, চিন্ময়ানন্দ তার ফোন নম্বর নেন ও তার ভর্তির ব্যবস্থা করে দেন। পরে তাকে ফোন করে কলেজের লাইব্রেরিতে ৫,০০০ টাকা বেতনের চাকরির প্রস্তাব দেন।

তরুণী জানান, তিনি সেই চাকরিটি করতে শুরু করেন কারণ তার পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র।

অক্টোবরে ওই তরুণীকে হোস্টেলে চলে আসার জন্য বলেন চিন্ময়ানন্দ। পরে তাকে আশ্রমে আসার আহ্বান জানান। এরপরই হোস্টেলের বাথরুমে তরুণীর গোসলের ভিডিও তাকে দেখিয়ে তা ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের ভিডিও-ও তুলে রাখা হয়। পরে সেটি দেখিয়েও তাকে ব্ল্যাকমেল করেন মন্ত্রী।

এবছরের জুলাই মাস পর্যন্ত এই অত্যাচার চলে। এরপরই ওই তরুণী সিদ্ধান্ত নেন তিনিও ভিডিও করে রাখবেন চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে।

আগস্ট মাসে একটি ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করে তিনি কলেজ থেকে পালিয়ে যান। মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা ফেসবুকে ওই পোস্ট দেখেন। তার মেয়ে ও আরও অনেক মেয়েকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনেন তিনি। এ ঘটনায় থানায় নিখোঁজ ও অপহরণের মামলা করা হয়।

এর এক সপ্তাহ পরে ওই তরুণীকে রাজস্থানে পাওয়া যায়। ৩০ সেপ্টেম্বর ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মেয়েটিকে আদালতে হাজির করা হয়। তখন রুদ্ধদ্বার শুনানিতে তরুণীর সব অভিযোগ শোনে শীর্ষ আদালত।

মন্ত্রী চিন্ময়ানন্দও সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।