নরসিংদীর পলাশে সরিষার বাম্পার ফলন

প্রকাশিত: ৮:৪৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০১৯ | আপডেট: ৮:৪৬:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০১৯

তারেক পাঠান পলাশ, (নরসিংদী) প্রতিনিধি: নরসিংদীর পলাশে এবার সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানায় পলাশ উপজেলা কৃষি বিভাগ। প্রাকৃতিক দূর্যোগ না থাকায় এ মৌসুমে সরিষা উৎপাদন অনেকাংশে বেড়ে যাওয়ায় খুশি এলাকার কৃষক। পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল, গজারিয়া, জিনারদী ও চরসিন্দুরের শীতলক্ষ্যার বুকে জেগে উঠা বিশাল চরের মাঠ জুড়ে সরিষার চাষ করে কৃষকের বুকে নতুন আশার সঞ্চার করেছে সরিষা।

পলাশ উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আমিরুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে ৭৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে যা গতবারের তুলনায় অনেক বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ মৌসুমে উৎপাদন হয়েছে প্রতি হেক্টর জমিতে ১৫০০ কেজি। তিনি আরো বলেন, আগে কৃষকরা স্থানীয় জাতের বীজ টরি-৭ চাষ করায় উৎপাদন অনেক কম হতো। তাই কৃষকরাও সরিষা উৎপাদনে অনিহা প্রকাশ করত।

কিন্তু আমরা কৃষকদের উচ্চ ফলনশীল সরিষার বীজ বারি সরিষা-১৪, বারি-১৫ ও বারি-১৭ বীজ বপনের পরামর্শ দিলে কৃষকরা তা ফলন করে এখন উৎপাদন অনেক বেড়ে গেছে। সরিষা গাছের উচ্চতা হয় এক ফুটের মতো। আগে সরিষা গাছ বড় হলেও ফলন হতো কম। নতুন জাতের ছোট আকারের এ সরিষা গাছের গোড়া থেকে মাথা পর্যন্ত ফল আসছে।

তাছাড়া আমরা গত দুই বছর যাবত উপজেলার ১০০ প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে সরিষার বীজ. সার ও কীটনাশক সরবরাহ করার ফলে উপজেলায় এখন সরিষার আবাদ অনেক বেড়ে গেছে। এছাড়া বীজ বপনের ৭০দিন থেকে ৮০ দিনের মধ্যে সরিষা ঘরে তুলতে পারে বলে এর উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ঘোড়াশাল পৌর এলাকার কৃষক নুরুল ইসলাম জানান, এবার দুই বিঘা জমিতে তিনি সরিষা আবাদ করেছেন। এ আবাদে সেচ, সার ও কীটনাশক কম লাগে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ না থাকায় এবার সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে।

অপর এক কৃষক ইসমাইল হোসেন জানান, সরিষা চাষ করে মানুষ শুধু তেলই তৈরি করেনা, এ সরিষা ভাঙ্গিয়ে খৈল ও গাছ থেকে ভুষি তৈরি হয় যা গরুর ভালো খাদ্য এবং ভালো জ্বালানী হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

কৃষক হাতেম আলী জানান, আমি এ বছর লাভবান হওয়ার কারণে আগামী মৌসুমে আমাদের এলাকার অনেক কৃষক এ জাতের সরিষা আবাদের আগ্রহ দেখাচ্ছে। সরিষা চাষ অত্যন্ত লাভজনক বলে জানান তিনি।