নাগরিকত্ব বিল নিয়ে বিক্ষোভে উত্তাল আসাম, ১৪৪ ধারা জারি

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:১৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১২, ২০১৯ | আপডেট: ১:১৩:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১২, ২০১৯
ছবি: এএফপি।

নাগরিকত্ব বিলের বিরোধিতায় উত্তাল আসামে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারও আসামসহ উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলোতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ অবস্থায় আসামে সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম।

আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়সহ বিভিন্ন রাজ্যে নাগরিকত্ব বিলের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার দিনভর চলে প্রতিবাদ কর্মসূচি। এসময় তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এরমধ্যেই বিতর্কিত ওই বিলটির বিরুদ্ধে নেতিবাচক মন্তব্য করায় রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় আটক করা হয়েছে আসামের তিন বুদ্ধিজীবীকে। এরই জেরে আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উলফা প্রধান পরেশ বড়ুয়া। তবে পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব আইনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে দাবি বিজেপির।

ভারতে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন পাসের প্রতিবাদে ডাক দেয়া হয়েছিল ‘স্বাধীন আসাম প্রতিষ্ঠার।’ আর এর প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার তিন আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ দায়ের করে ভারতীয় পুলিশ। সংবাদমাধ্যম নিউজ এইট্টিন জানিয়েছে, ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে গত মঙ্গলবার ভারতের লোকসভায় ‘সিটিজেনশিপ (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০১৬’ পাস করা হয়েছে। এতে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে।

নাগরিকত্ব আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে আসামে সৃষ্ট অসন্তুষ্টির কারণ ব্যাখ্যায় আরেকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে লিখেছে, এই আইনটি ১৯৮৫ সালের আসাম অ্যাকর্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ১৯৮৫ সালের আসাম অ্যাকর্ডে বলা হয়েছিল, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগে থেকে যারা আসামে বাস করছে, তারাই শুধু নাগরিকত্ব পাবে। ‘মিজ জিরলাই পাওয়ালের’ (এমজেডপি) সাধারণ সম্পাদক লালনুনমাউই পাউটু মনে করেন, উত্তর-পূর্ব ভারতের নাগরিকরা ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেয়ার বিষয়টি সমর্থন করে না। এই আইন পাস হয়ে গেলে মিজোরামে ‘বাংলাদেশ থেকে যাওয়া বৌদ্ধ ধর্ম পালনকারী চাকমারা’ ভারতের নাগরিকত্ব পেয়ে যাবে।’

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ‘স্বাধীন আসামের’ ডাক দেয়া ও ভারতের সম্পর্কে ‘বিতর্কিত’ মন্তব্য করার অভিযোগে দেশটির পুলিশ হিরেন গোহাইল, অখিল গগৈ ও মনজিৎ মোহন্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। এদের মধ্যে গোহাইলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ভারতের বিষয়ে ‘বিতর্কিত’ মন্তব্য করেছেন। অপর দুইজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ‘স্বাধীন আসাম’ প্রতিষ্ঠার ডাক দিয়েছেন। সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত ‘ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের’ (উলফা) মতাদর্শের সঙ্গে তাদের বক্তব্য মিলে যায়। আইন পাসের আগে থেকেই এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল উত্তর পূর্ব-ভারতের বিভিন্ন সংগঠন। এর প্রতিবাদে তারা মঙ্গলবার ধর্মঘটও আহ্বান করেছিল।

মঙ্গলবারের ধর্মঘটে ‘মিজ জিরলাই পাওয়াল’ (এমজেডপি), ‘অল অরুণাচল প্রদেশ স্টুডেন্টস ইউনিয়ন’ (আপসু), নাগা স্টুডেন্টস ফেডারেশন (এনএসএফ), ‘অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়নসহ’ (এএএসইউ) মোট ১১টি ছাত্র সংগঠন সমর্থ দিয়েছিল। নর্থ ইস্ট স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন (নেসো) ও ‘অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের’ (আসু) প্রধান পরামর্শক সমুজ্জ্বল কুমার ভট্টাচার্য গোয়াহাটিতে এক সাংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ধর্মঘটে সমর্থন জানিয়েছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর ৩০টি সংগঠন।

এদিকে আসাম নিয়ে এই সঙ্কটের মধ্যে আগুনে ঘি ঢালছে উলফা। আসামে বসবাসকারী বাঙালিরা যদি সেখানকার নাগরিকত্ব বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে না নামেন তাহলে তাদের শত্রু হিসেবেই গণ্য করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। উলফা নেতা পরেশ বড়ুয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘জোর করে আসামবাসীর আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না। এই লড়াইয়ে উলফার সশস্ত্র বাহিনীই নেতৃত্ব দেবে।’

উলফার আরেক নেতা জিতেন দত্তও বলেন, ‘ভারত আসামের দাবি না মানলে, আসামের স্বাধীনতার দাবি তোলার অধিকার আছে।’