নারায়ণগঞ্জে সিজারের সময় জরায়ু কেটে ফেললেন চিকিৎসক, অতঃপর…

প্রকাশিত: ১২:১৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯ | আপডেট: ১২:১৪:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯

নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ভুল চিকিৎসায় আবারও এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার রয়েল স্পেশালাইজড হসপিটালে মোসামৎ সুলতানা নামের এক প্রসূতির ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত মঙ্গলবার বিকেলে প্রসূতি সুলতানাকে সিজার করতে হাসপাতালে ভর্তি করে স্বজনরা। পরে গত বুধবার রাতে তার মৃত্যু হয়। এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় সোনারগাঁও জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় অমান্তিকা নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়।

সুলতানার স্বজনরা জানান, মঙ্গলবার বিকেলে প্রসব ব্যথা উঠলে স্ত্রী সুলতানাকে উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার রয়েল হাসপাতালে ভর্তি করান স্বামী মোহাম্মদ আলী। সেখানে গাইনি চিকিৎসক ফারহানা বলেন দ্রুত সুলতানার সিজার করতে হবে, নয়তো সমস্যা হবে।

তখন সুলতানার স্বামী চিকিৎসক ফারহানাকে বলেন আল্ট্রাসনোগ্রাম ছাড়া কি সিজার করা যাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে ফারহানা বলেন করা যাবে, কোনো সমস্যা হবে না। তখন সুলতানার সিজার করতে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান ফারহানা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সুলতানা একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু সিজার শেষে চিকিৎসক ফারহানা জানান সুলতানার জরায়ু কেটে গেছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তার জন্য রক্ত লাগবে। তখন স্বজনরা তিন ব্যাগ রক্তের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু রক্ত দেয়ার পরও সুলতানার রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড এলাকার প্রো-অ্যাকটিভ হাসপাতালে রোগীকে পাঠিয়ে দেন চিকিৎসক ফারহানা। ঘণ্টাখানিক সেখানে রাখার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীকে ঢাকায় পাঠান। বুধবার রাত ১০টার দিকে সুলতানা মারা যান।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত চিকিৎসক ফারহানার মোবাইলে কল দিয়ে বন্ধ পাওয়া যায়।

সোনারগাঁ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হালিমা সুলতানা বলেন, সংবাদ পাওয়ার পর হাসপাতাল পরিদর্শন করে মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, হাসপাতালের ব্যাপারগুলো নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন দেখেন। পর পর দুটি মৃত্যুর ঘটনা দুঃখজনক। রোগী মৃত্যুর ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করেছেন সিভিল সার্জন। প্রতিবেদন পেলে এসব হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।