‘নিরাপত্তা ও ভিটেমাটি ফেরত দিলে মিয়ানমারে ফিরবে রোহিঙ্গারা’

সফিউল আলম সফিউল আলম

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৮:০৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯ | আপডেট: ৮:০৯:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

নিরাপত্তা ও ভিটেমাটি ফিরিয়ে দিলে মিয়ানমারে ফিরে যাবেন বলে চীনের তিনিধিদলকে জানিয়েছেন তমব্রু সীমান্তে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা। রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিংয়ের কাছে এসব দাবি জানান তারা।

লিজিমিং রোহিঙ্গাদের উপর মায়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের কথা শোনেন। এবং নিরাপত্তা ও ভিটেমাটি ফেরত দিলে মায়ানমারে ফেরত যাবেন বলেও জানান রোহিঙ্গারা।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে কক্সবাজার আসছেন আমেরিকা ও চীনের পৃথক প্রতিনিধি দল।

রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান মার্কিন প্রতিনিধি দলটি। বিমান বন্দর থেকে প্রতিনিধিদলটি সরাসরি চলে যান কুতুপালং ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। প্রতিনিধি দলটির সঙ্গে রয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট আর্ল মিলার। প্রতিনিধিরা মূলত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করবেন।

অপর দিকে রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান চীনের প্রতিনিধিদলটি। ওই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। সেখান থেকে বান্দরবানের ঘুমধুমের তুমব্রু কোনারপাড়া সীমান্তে জিরো লাইনের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিদর্শন করবেন। জিমিং ছাড়াও প্রতিনিধি দলে রয়েছেন আরও আট সদস্য।

প্রসঙ্গত যে, গত ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াতে প্রতিনিধি দল পাঠায় চীন। চীনের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার। কিন্তু রোহিঙ্গারা রাজি না হওয়ায় সে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি আটকে যায়।

উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালে ২৫ আগস্ট রাখাইনের ৩০টি নিরাপত্তা চৌকিতে একযোগে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন শুরু করে। ফলে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়।

পুরনোসহ উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি শিবিরে এখন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।