‘নির্বাচনের সময় শান্তি রক্ষায় সর্বশক্তি নিয়োগ করবে বিজিবি’

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩:০৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮ | আপডেট: ৩:০৩:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮

নির্বাচনের সময় দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বশক্তি নিয়োগ করবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ কথা জানিয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘ওইসময় সীমান্তের শান্তি রক্ষায় ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।’

প্রতিবেশী দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সহযোগিতায় সীমান্ত হত্যা ও মাদক পাচার আগের তুলনায় কমেছে বলেও জানিয়েছেন বিজিবির মহাপরিচালক।

আজ সোমবার নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিজিবির মহাপরিচালক।

বিজিবির মহাপরিচালক জানান, গত সপ্তাহে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সম্মেলনে পারস্পরিক আস্থা জোরদার করার পাশাপাশি নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম বলেন, ‘দুই দেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্তে যেন অস্ত্র চোরাচালান হতে না পারে সেজন্য ইতিমধ্যে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকালে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী বিজিবির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম বলেন, ‘ওই সময় আমাদের সব প্রশিক্ষণ বন্ধ রাখব। ওই সময় একান্ত প্রয়োজন ছাড়া আমাদের লোকজন ছুটিতে থাকবে না। যেন আমরা আমাদের বেশি পরিমাণ জনবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে যেন নিয়োজিত করতে পারি। সেই সময় সীমান্ত যেন সুরক্ষিত থাকে সেজন্য আমরা ভারত ও মিয়ানমার ওই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছেই সহযোগিতা কামনা করেছি। যেন ওই সময় আমাদের আন্তরাষ্ট্রীয় সীমান্ত যেন নিরাপদ, সুরক্ষিত ও শান্ত থাকে।’

চলতি বছরে সীমান্ত পথে মাদক ও অস্ত্র পাচার বন্ধে বিজিবির অর্জিত সাফল্যের তথ্য তুলে ধরে মহাপরিচালক বলেন, ‘ইয়াবা পাচার বন্ধে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু পাচারকারীদের নিত্যনতুন উদ্ধাবনী পদ্ধতির কারণে মাদক পাচার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে।’

মহাপরিচালক বলেন, ‘সবজির ভেতরে ইয়াবা। ডাবের ভেতরে ইয়াবা। কুকুর দিয়ে স্নিফ করার পরও আমরা এগুলো ধরতে পারছি না।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিষয়টা অত্যন্ত দুরূহ। কিন্তু আমরা ধরেও ফেলছি। না হলে আমরা জানলাম কেমনে যে এভাবে আসে?’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিজিবির মহাপরিচালক জানান, সীমান্তে মানুষ হত্যার ঘটনা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। যেখানে ২০০১ সালে ৭১ জন, ২০১০-এ ৬০, ২০১৫-তে ৪৫, ষোল-সালে ৩১ ও গতবছর ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে; সেখানে এ বছর চলতি সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত মাত্র একজন সীমান্তে মারা গেছেন বলে জানান তিনি।