নিশামের ছক্কার সময় মৃত্যুকোলে ঢলে পড়েন শৈশব কোচ

টিবিটি টিবিটি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:২৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০১৯ | আপডেট: ৫:২৬:অপরাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০১৯

ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডের লর্ডসের বিশ্বকাপ ফাইনালে দম আটকে এসেছিল ক্রিকেট বিশ্বের। টাই হওয়া ম্যাচ যখন সুপার ওভারে গড়াল, তখন থেকে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। সেটা এতটাই বেশি ছিল যে, উত্তেজনা সইতে না পেরে হৃদপিণ্ডের কাঁপাকাঁপি বেড়ে গিয়েছিল অনেকেরই। সেসময়ই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন কিউই অলরাউন্ডার জিমি নিশামের শৈশব কোচ ডেভিড গর্ডন!

ফাইনালের পাঁচ সপ্তাহ আগেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন নিশামের হাইস্কুল কোচ ডেভিড গর্ডন। হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই দেখেছেন শিষ্যের খেলা। নির্ধারিত ৫০ ওভারে দুই দলের রান সমান ২৪১ হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। সেখানে প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড রান তোলে ১৫। নিউজিল্যান্ডকে জিততে হলে করতে হতো ১৬।

এমনিতে রুদ্ধশ্বাসে ভরা ম্যাচ, তারমধ্যে শিষ্যের ছক্কা মারার উত্তেজনা সহ্য হলো না গর্ডনের। উত্তেজনায় শ্বাসক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান তিনি।

গর্ডনের কন্যা লিওনি পিতার মৃত্যুতে জানান, সুপার ওভারে ১৫ রানের জবাবে নিশাম যখন দ্বিতীয় বলে ছক্কা মারলো ঐ মুহুর্তে বাবা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

লিওনি আরও বলেন, ‘ফাইনাল ওভারের সময় একজন নার্স তার পাশে ছিল। সুপার ওভারের সময় নার্স জানায় তার (বাবা) শ্বাসে পরিবর্তন হচ্ছে। আমার মনে হয়, নিশামের ছক্কার সঙ্গে সঙ্গে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।’

ছোটবেলার কোচ গর্ডনের মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নিশাম। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) কিউই অল-রাউন্ডার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে লিখেন, ‘ডেভ গর্ডন, আমার স্কুল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কোচ এবং বন্ধু। ক্রিকেটের প্রতি আপনার ভালবাসা ছিল সংক্রমক, বিশেষ করে আমাদের মধ্যে তারা ভাগ্যবান ছিল যারা আপনার কাছে খেলা শিখেছে। এমন একটি ম্যাচের পর আপনি চলে গেলেন। আশা করি আপনি গর্ববোধ করেছেন। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ। শান্তিতে ঘুমান।’

গর্ডনের প্রতি নিশামের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন লিওনিকে ব্যথিত করেছে। গর্ডনের কন্যা বলেন, ‘আপনি জানেন, এটা সুন্দর। তিনি সবসময় জিমির সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। তিনি নিঃসন্দেহে তার ক্যারিয়ার অনুসরণ করতেন।’

২৫ বছর ধরে গর্ডন অকল্যান্ড গ্রামর স্কুলে শিক্ষকতা, ক্রিকেট ও হকি কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। নিশাম, লকি ফার্গুসনের মতো অনেক কিউই ক্রিকেটার তার শিষ্য ছিলেন।