নোয়াখালীতে গণধর্ষণ : রুহুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে আ’লীগ

প্রকাশিত: ৯:০৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩, ২০১৯ | আপডেট: ৯:০৩:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩, ২০১৯
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে স্বামী-সন্তানকে বেঁধে গৃহবধূকে গণধর্ষণ ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত রুহুল আমিনকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও চর জুবলী ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক সমকালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন- এ ঘটনায় দলের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে। আওয়ামী লীগ ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংগঠন। এ সংগঠনে কোন অপরাধীর ঠাঁই নেই। রুহুল আমিনকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। খুব শিগগিরই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।

এ সময় ঘৃণ্য এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

এর আগে বুধবার রাত পৌনে তিনটার দিকে রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফ সমকালকে বলেন, রুহুল আমিনকে বুধবার রাতে উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ওয়াপদা এলাকার একটি খামার থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া এজাহারভুক্ত অন্য আসামি বেচুকে জেলার সেনবাগ উপজেলার খাঁজুরিয়া গ্রামের একটি ইটভাটা থেকে রাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে।

এই ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হলো বলে জানান তিনি।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটের দিন রোববার রাতে সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিনের নেতৃত্বে একদল যুবক ওই নারীর বসতঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তার স্বামী-সন্তানদের অস্ত্রের মুখে হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে ওই নারীকে ঘরের বাইরে নিয়ে দুর্বৃত্তরা ধর্ষণ করে। তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনও করা হয়।

এ ঘটনায় সোমবার রাতে নির্যাতিত গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে চরজব্বার থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, ৩০ ডিসেম্বর দুপুরে সংসদ নির্বাচনে সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের ১৪ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে যান। ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ায় ওই নারীর সঙ্গে কেন্দ্রে থাকা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের তর্ক হয়। যুবকরা ওই নারীকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। পরে ওই রাতেই গণধর্ষণের শিকার হন চার সন্তানের জননী ওই গৃহবধূ।