পটিয়ায় করোনা আক্রান্ত রোগী বৃদ্ধির পাশাপাশি বেড়েছে ঘরে ঘরে জ্বর সর্দি কাশির প্রকোপ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:৪০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২১ | আপডেট: ৬:৪০:অপরাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২১

কাউছার আলম, পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: সারাদেশের মতো চট্টগ্রামের পটিয়ায় ও বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। আশঙ্কাজনক হারে সংক্রমণ হচ্ছে এ উপজেলায়। চট্রগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেয়া তথ্য সূত্রে জানা যায়, পটিয়া উপজেলায় আক্রান্তের হারের মতো মৃত্যুর সংখ্যাও অনেক বেশি।

সিভিল সার্জন অফিস থেকে আজ বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, চট্টগ্রামের ১৪টি উপজেলায় কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ হাজার ১৯৮ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৩৬১ জন। এরমধ্যে পটিয়া উপজেলায় মোট কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪৪৬ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ২৬ জন।

এদিকে মানুষের মধ্যে করোনা নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। তার পাশাপাশি বেড়েছে ঘরে ঘরে মানুষের জ্বর-কাশির প্রকোপ। আর যারা জ্বর সর্দি কাশিতে ভোগছেন তারা দোকান থেকে জ্বর-কাশির ওষুধ নিয়ে যাচ্ছে। পরীক্ষা করাচ্ছে না। কোনো স্বাস্থ্যবিধিও মানা হচ্ছে না।

পটিয়া উপজেলাকে করোনার ‘হটস্পট’ বা সংক্রমণ প্রবণ এলাকা ঘোষণা করতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আর যারা আক্রান্ত হচ্ছেন বেশিরভাগ মানুষ আইসোলোশনে থাকছে না। আর এসব এলাকায় কিংবা সংক্রমিত রোগীদের প্রতি প্রশাসনের নজরদারি নেই। তাতে হাট-বাজারে মানুষ আরও বেশি করে আক্রান্ত হচ্ছেন। সাধারণ জ্বর মনে করে অনেকেই বের হয়ে আসছেন। তাতে সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। করোনা টেস্ট সহজলভ্য না হওয়ায় টেস্ট করাতে আগ্রহী না অনেকেই। শুধুমাত্র রোগীর অবস্থা খারাপ হলে শহরের হাসপাতালের দিকে ছুটছেন।

এ ব্যাপারে পটিয়া উপজেলা স্বাস্হ্য কর্মকর্তা ডাক্তার সব্যসাচী নাথ বলেন, করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত না হওয়ার একমাত্র উপায় হলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে, সচেতন না হলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আছে। এটি সবাই জানে। কিন্তু মানতে হবে। পটিয়ার লোকজনের মধ্যে নিশ্চয় স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা করনেই চট্টগ্রামে অন্যান্য উপজেলার চেয়ে বেশি করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন কিন্তু আমরা চাই, সবাই সুস্থ থাকুক। তাই সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনুরোধ জানান এ চিকিৎসক কর্মকর্তা।

এদিকে পটিয়া প্রতিদিন করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। সঙ্গে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর সারিও। এছাড়া হঠাৎ বাড়তে শুরু করেছে জ্বর, সর্দি-কাঁশির প্রকোপ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও অন্যান্য প্রাইভেট হাসপাতালেও বেড়েই চলেছে রোগীর চাপ, সেই সঙ্গে বাড়ছে প্রয়োজনীয় ওষুধের চাহিদাও।

চিকিৎসকরা বলছেন, শুধু করোনাভাইরাস নয়, ঋতু পরিবর্তনেরও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এ কারণে সবখানেই এখন জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত রোগী বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেন তাঁরা।

অন্যদিকে, পটিয়ার ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি-কাঁশির প্রভাব পড়েছে ওষুধপাড়ায়। চাহিদার কারণে নাপা, নাপা এক্সট্রা, এইচ প্লাস, নাপা সিরাপসহ প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে, বেড়েছে দামও। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছেন অসাধু ব্যাবসায়ীরা। কঠোর বিধি-নিষেধের আওতামুক্ত ওষুধ সরবরাহকারী কম্পানি, প্রতিষ্ঠান ও ফার্মেসিসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও অসাধু ব্যবসায়ীদের দাবি, লকডাউনে ওষুধ কম্পানির প্রতিনিধিদের দেখা মিলছে না। তবে এটি কৃত্রিম সংকট নয়, বরং কম্পানি থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় সাময়িক এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, পটিয়া উপজেলা সদর সহ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ফার্মেসিগুলোয় সহজে মিলছে না জ্বর-সর্দি, কাশি-হাঁচির ওষুধ। চাহিদার অজুহাতে দামও বাড়িয়েছেন ফার্মেসির মালিকরা। বিশেষ করে পাড়া-মহল্লার ফার্মেসিগুলোতে বেশি দামে প্যারাসিটামল বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ মিলছে ফার্মেসি মালিকদের বিরুদ্ধে।

অপরদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় লাভের আশায় ফার্মেসি-মালিকরা এই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলেছেন।

বুধবার সকালে জ্বরের ওষুধ এইচ প্লাসের জন্য উপজেলার এক ফার্মেসি থেকে অন্য ফার্মেসি ঘুরতে দেখা গেছে আশিয়া ইউনিয়ন হতে আসা জাহাঙ্গীর হোসেন নামের একজন। তিনি বেশ কয়েকটি ফার্মেসি ঘুরে ওই ওষুধ খুঁজে পাননি।

শান্তির হাট এলাকায় গিয়ে গতকাল রাতে দেখা গেছে, চাহিদাপত্র নিয়ে দোকানে দোকানে ঘুরেও ওষুধ না পাওয়া মফজল আহমদ বলেন, আমার ছেলের জ্বরের জন্য ওষুধ নিতে এসেছিলাম। কিন্তু বড় বড় কয়েকটি ফার্মেসি ঘুরেও পর্যাপ্ত ওষুধ পাওয়া যায়দনি ।

এদিকে পটিয়ার সচেতন মহল মনে করছেন, ফার্মেসি গুলোতে জ্বর-সর্দির ওষুধ মিলছে, কিন্তু চাহিদা থাকায় তারা বেশি দামে বিক্রি করছে। আসলে কম্পানিগুলোতে ওষুধের সংকট রয়েছে কি না, তা প্রশাসনকে খতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করছেন তারা।

দেশের খ্যাতনামা একটি ওষুধ কম্পানির সিনিয়র মার্কেটিং ম্যানেজার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বর্তমানে জ্বর, সর্দি, কাশির প্রকোপ ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। চাহিদার তুলনায় কম্পানিগুলো আমাদের ওষুধ সরবরাহ করতে পারছে না। বিশেষ করে নাপা ট্যাবলেট, নাপা সিরাপ, এইচ ট্যাবলেট ও এইচ সিরাপের চাহিদা অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। কয়েক দিন ধরে প্রতি পাতা নাপা ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগে যার দাম আট টাকা ছিল।