পরিত্যক্ত অকেজো বেলে জমি কাজে লাগিয়ে সফল চৌগাছার কৃষকেরা

প্রকাশিত: ৫:২১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩, ২০১৯ | আপডেট: ৫:২২:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩, ২০১৯
চৌগাছার ইলিশমারী বিস্তীর্ণ মাঠ থেকে কৃষক খোকনের চীনা বাদামের ক্ষেতের ছবি। ছবি: দি বাংলাদেশ টুডে

ইয়াকুব আলী, চৌগাছা(যশোর) প্রতিনিধি: পুষ্টিগুণে ভরা চীনা বাদাম। তৈল জাতীয় সুস্বাদু খাদ্য ফসল হিসেবে চীনা বাদামের যথেষ্ট গুরুত্ব আছে।। দেশে-বিদেশে রয়েছে বেশ কদর। আমেরিকা, ডেনমার্ক, কানাডা এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে বাদামের তেল খাওয়া হয়। বাদাম তেলের যথেষ্ট খাদ্য উপাদান রয়েছে। যা শরীরের জন্য সহনীয়।

আমাদের দেশে বাদাম তেল আহরণের কোনো মেশিন নেই। ফলে সাধারণ কেক, পাটালী, পায়েশ, পোলাওতে কিছুটা ব্যবহার করে থাকি। বাদাম ভেজে খেতে আমরা অভ্যস্ত। বাদাম বিভিন্ন পায়েসের স্বাধ বাড়তে বাদাম ব্যবহার করা হয়।

যশোরের চৌগাছা উপজেলায় পরিত্যাক্ত অকেজো জমিতে ব্যাপক হারে চীনা বাদামের চাষ করে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। এসব জমি এক সময় কৃষকেরা অনেকে খাজনা পর্যন্ত দিতে চেতেন না। ছাগল ও গরুর চারণভূমি ছিল। ওই জমির গুরুত্ব বেশ বেড়েছে। এখন সবজি থেকে শুরু করে সব ধরণেরে ফসল করছেন চাষীরা।

চলতি মৌসুমে চৌগাছা উপজেলা কৃষি অফিস জানায়,উপজেলার ইলিশমারী, জগদীশপুর, হামিকপুর, নারায়ণপুর ও পাতিবিলা ইউনিয়নের একশত ২০ হেক্টর জমিতে চীনা বাদামের আবাদ হয়েছে।

৫/৬ বছর আগেও ওইসব জমি পতিত ছিল। অনেক কৃষক জমির বালি বিক্রি করে দিত। কৃষকরা বেলে জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চীনা বাদাম তুলা, চীনের আলু ও সবজির চাষাবাদ ভাল হচ্ছে। এবং ফলনও ভাল হচ্ছে। বিশেষ করে গত বছর এসব জমিতে চীনা বাদামের চাষ কলে বেশ লাভবান হয়। যে কারণে এবার চীনা বাদামের চাষ বেড়েছে। কৃষকেরা চীনা বাদামের চাষ করে লাভবান হবেন বলে মনে করছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, চৌগাছায় খরিপ-২ মৌসুমে চীনা বাদাম চাষ হয়েছে ৮৫ হেক্টর জমিতে। উপজেলার জগদীশপুর, হাকিমপুর, নারায়ণপুর ও পাতিবিলা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ বালি জমিতে চীনা বাদাম চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এ মৌসুমে ঢাকা-১ ও ঢাকা-২ জাতের চীনা বাদামের চাষ হয়েছে। এদের মধ্যে ইলিশমারী গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম খোকন ৩ বিঘা, আসাদুল ইসলাম মেম্বার ৭ বিঘা, লেন্টু ৮ বিঘা, মালেক ৫ বিঘা,লবাই মন্ডল সাড়ে ৭ বিঘা, ওয়াজ মন্ডল ৯ বিঘা জমিতে চীনা বাদামের চাষ করেছেন।

কৃষক শহিদুল ইসলাম খোকন জানান, বাদাম চাষ অত্যন্ত লাভজনক। এক বিঘা জমিতে মাত্র ৪/৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। খেন বাদাম উঠতে শুরু করেছে। বিঘা প্রতি ৭ /৮ মণ করে ফলন হচ্ছে। মন প্রতি ৪ হাজার টাকা দামে বিক্রি করছি।

আসাদুল ইসলাম মেম্বারসহ অন্যান্য কৃষকরা আরও জানান, বেলেযুক্ত মাটিতে হওয়ায় এ এলাকার জমিতে তেমন ফসল হতো না। ফলে অনেকে তাদের জমি থেকে বালি উত্তোলন করে বিক্রি করত। বর্তমানে কৃষকরা জমি খনন করে বালি উত্তোলনের পরিবর্তে চীনা বাদামের চাষ শুরু করেছে। চাষ পদ্ধতির পরিবর্তন ঘটায় কৃষকদের চাষের ধরন পাল্টে গেছে। কৃষকরা বেলে জমিতে বিকল্প ফসল হিসেবে চীনা বাদাম বেছে নিয়ে চাষাবাদ শুরু করেছে। এতে তাদের লাভও হচ্ছে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তাপস কুমার বলেন, কৃষকদের ক্ষেতে নিয়মিতভাবে পরামর্শ দেয়া হয়। খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় বেলে জমিতে কৃষকরা চীনা বাদামের আবাদ করছে। খরিপ-২ মৌসুম ছাড়াও রবি মৌসুমে বিভিন্ন জাতের চীনা বাদামের চাষ হয়।

এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইচ উদ্দিনের সাথে। তিনি বলেন, তৈল ফসল হিসেবে চীনা বাদামের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। আমেরিকা, ডেনমার্ক, কানাডা এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে বাদামের তেল খাওয়া হয়। বাদাম তেলে যথেষ্ট খাদ্য উপাদান রয়েছে। যা শরীরের জন্য সহনীয়। আমাদের দেশে বাদাম তেল আহরণের কোনো মেশিন নেই। ফলে সাধারণ কেক, পাটালী, পায়েশ, পোলাওতে কিছুটা ব্যবহার করি। এছাড়া বাদাম ভেজে খেতে আমরা অভ্যস্ত। চীনা বাদামের বেশ কদর আছে আমাদের দেশে। এছাড়া চীনা বাদাম চাষ করে চাষীরা আর্থিভাবে বেশ লাভবান হচ্ছেন।