পরিবহন ধর্মঘটে স্থবির বেনাপোল বন্দর

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৫৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০১৮ | আপডেট: ১১:৫৭:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০১৮
ফাইল ফটো

শহিদ জয় যশোর প্রতিনিধি :
সড়ক পরিবহন আইনের কিছু ধারা সংশোধনসহ আট দফা দাবিতে শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে ৪৮ ঘণ্টা শ্রমিক ধর্মঘটে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোলে।

রোববার সকাল থেকে শুরু হওয়া ৪৮ ঘণ্টার শ্রমিক ধর্মঘটে বন্দর থেকে কোনো পণ্য পরিবহন করতে পারছেন না বন্দর ব্যবহারকারী সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা। শত শত পণ্য চালানের সরকারি শুল্ক পরিশোধ করার পরও ট্রাক ধর্মঘটে বন্দর থেকে খালাস নিতে পারছেন না তারা। এর ফলে বন্দরে ভয়াবহ পণ্য জট দেখা দিয়েছে। বন্দরের অভ্যন্তরে পণ্য রাখার জায়গা না থাকায় ভারত থেকে নিয়ে আসা পণ্য নিয়ে কয়েকশ’ ট্রাক বন্দর ও বন্দরের আশেপাশের সড়কে দাঁড়িয়ে আছে পণ্য খালাসের অপেক্ষায়। প্রতিদিন ভারত থেকে তিনশ’ থেকে সাড় চারশ’ ট্রাক পণ্য বেনাপোল বন্দরে আসে। দেড়শ’ থেকে দুইশ’ ট্রাক বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রফতানিও হয়। ধর্মঘটে আমদানি পণ্য আটকা থাকায় দেশের শিল্প-কারখানার উৎপাদন কাজে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা ব্যবসায়ীদের।

এদিকে, ধর্মঘট শুরু হওয়ার পর বেনাপোল থেকে আন্ত—ঃজেলা, ঢাকাসহ দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। অনেক যাত্রীকে স্ট্যান্ডে এসে ফিরে যেতেও দেখা গেছে। যশোর-বেনাপোল সড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে ধর্মঘটের সমর্থনকারীরা গণপরিবহন চলাচলে বাধা দিচ্ছেন। ফলে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে যান চলাচল করতে পারছে না।

পরিবহন ধর্মঘটের প্রথম দিনে রোববার দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল বন্দরে পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। পচনশীল পণ্য পরিবহন করতে কয়েকটি ট্রাক বন্দরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলেও তারা পণ্য লোড করতে সাহস পাচ্ছে না। এতে করে মাছ, পেঁয়াজ, পানসহ বিভিন্ন ধরনের পচনশীল পণ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এসব পণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, ধর্মঘটে বেনাপোল থেকে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ থাকায় আটকা পড়েছেন ভারত থেকে আসা কয়েকশ’ যাত্রী। গন্তব্যে ফিরতে না পেরে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও বাস কাউন্টারে তারা অপেক্ষা করছেন। পরিবহন কর্তৃপক্ষ বলছেন, সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা বাস ছাড়তে পারছেন না। এতে তাদের কিছু করার নেই।

যাত্রীরা অভিযোগ তুলেছেন, জরুরি প্রয়োজনে যারা গন্তব্যে ফিরতে চাইছেন তাদের কাছ থেকে তিন থেকে চার গুণ বেশি ভাড়া আদায় করে ফায়দা লুটছে ভাড়ায় চালিত কার ও মাইক্রোবাস।
বেনাপোল ঝিকরগাছা ট্রাক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহিন জানান, সংসদের পাসকৃত সড়ক পরিবহন আইনের কিছু ধারা শ্রমিকস্বার্থ পরিপন্থী। ফলে এই আইন মেনে শ্রমিকরা সড়কে গাড়ি চালাতে চাইছেন না। তারা বলছে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাবেন না।

বেনাপোল ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন গাজী জানান, শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকা ৪৮ ঘণ্টা পরিবহন ধর্মঘটের কারণে তারা বন্দর থেকে কোনো আমদানি পণ্য পরিবহন করছেন না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বেনাপোল বন্দর থেকে সব ধরনের পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকবে।
বেনাপোল সোহাগ পরিবহনের ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম জানান, ভারতফেরত আটকে পড়া কিছু যাত্রী তাদের কাউন্টারে অবস্থান করছেন। আবার অনেকে স্থানীয় বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে ঠাঁই নিয়েছেন। ধর্মঘট প্রত্যাহার অথবা শেষ হলে তবেই যাত্রীবাহী বাস ছাড়া হবে বলে জানান তিনি।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, ধর্মঘটের মধ্যে যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম জানান, পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটে বেনাপোল বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকলেও ভারত থেকে আমদানি পণ্য প্রবেশে কোনো বাধা নেই।