পলাতক গ্রেনেড হামলা মামলার আসামিরা কে কোথায়

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০১৮ | আপডেট: ১১:৪৫:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০১৮

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামির তালিকায় ৫২ জনের নাম আছে। এর মধ্যে অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে তিন আসামির। বাকি ৪৯ জন আসামির মধ্যে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৮ জন পলাতক রয়েছেন।

গ্রেনেড হামলা মামলার বিচারকালে অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা তিন আসামির। এদের মধ্যে একজন জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। এ ছাড়া অন্য দুই আসামি হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান ও শরিফ শাহেদুল ইসলাম বিপুলকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় পলাতক ১৮ জন আসামির মধ্যে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন লন্ডনে অবস্থান করছেন। মামলাটিতে কারাবন্দি সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন আহমেদ ও আরেক ভাই বাবু ওরফে রাতুল বাবু বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকায় রয়েছেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে তাজউদ্দিন আহমেদকে দেশে ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

সাবেক বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য কাজী মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ আছেন সৌদি আরবে এবং হারিস চৌধুরী বিভিন্ন সময় যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে থাকছেন।

তবে বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন, সে সম্পর্কে গোয়েন্দা সংস্থার হাতে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। এ ছাড়া আসামি মো. হানিফ পলাতক রয়েছেন, তার অবস্থানও নিশ্চিত করতে পারেনি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

মামলার আসামি দুজন সরকারি কর্মকর্তা সাবেক মেজর জেনারেল এটিএম আমিন এবং সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার এখন দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। ভারতের তিহার জেলে রয়েছেন দুই ভাই মহিবুল মুক্তাকিন ও আনিসুল মুরসালিন। এ ছাড়া হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, মো. ইকবাল, খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে বদর, মাওলানা লিটন ওরফে জোবায়ের ওরফে দেলোয়ার, ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিসি (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান এবং ডিসি (দক্ষিণ) খান সাঈদ হাসানও পলাতক রয়েছেন। তবে তারা দেশেই আছেন বলে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে।

অন্য আসামিদের মধ্যে হরকাতুল জিহাদ নেতা শফিকুর রহমান, আব্দুল হাই, দেলোয়ার হোসেন জোবায়ের ওরফে লিটন, খলিলুর রহমান ও ইকবাল এবং পুলিশ কর্মকর্তা খান সাঈদ হাসান ও ওবায়দুর রহমান কোথায় আছে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য নেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে।

কারাবন্দি থাকা আসামিরা হলো বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, সামরিক গোয়েন্দা অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুর রহিম, পুলিশের সাবেক আইজি শহিদুল হক, খোদা বক্স ও আশরাফুল হুদা, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্নে সাইফুল ইসলাম ডিউক, ঢাকা সিটি করপোরেশেনের সাবেক কাউন্সিলর আরিফুল ইসলাম আরিফ, সিআইডির সাবেক তিন কর্মকর্তার মুন্সী আতিকুর রহমান, আব্দুর রশীদ ও রুহুল আমিন, পাকিস্তানি নাগরিক আব্দুল মজিদ ওরফে ইউসুফ ভাট ওরফে আব্দুল মাজেদ ভাট, হরকাতুল জিহাদ ও অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের নেতা মাওলানা শেখ আব্দুস সালাম, আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আব্দুর রাজ্জাক, রফিকুল ইসলাম সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামিম ওরফে রাশেদ, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডাক্তার আবু জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, উজ্জ্বল ওরফে রতন ও আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার। মাওলানা শেখ ফরিদ, আব্দুল মালেক ওরফে গোলাম মোস্তফা ওরফে জিএম, মাওলানা আব্দুল হান্নান ওরফে সাব্বির, মাওলানা আব্দুর রউফ, জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, শাহাদাত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, হোসাইন আহম্মেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, তারা বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছে।