পশু-পাখির অভয়াশ্রম করতে সাফারী পার্কে ৫৪ প্রজাতির গাছ রোপন

প্রকাশিত: ৪:২৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯ | আপডেট: ৪:২৮:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কে বিভিন্ন পশু-পাখিসহ বন্যপ্রাণীর অভয়াশ্রম করতে পার্কটিতে ৫৪ প্রজাতির ফুল-ফল ও প্রায় বিলুপ্ত প্রজাতির ২০ হাজার গাছের চারা রোপন করা হয়েছে।

পার্কটিতে প্রচুর পরিমানের শালবন থাকলেও ছিল না ফলের গাছ। যার কারণে হয়ে উঠেনি পশু ও পাখিসহ বন্যপ্রাণীর অভয়াশ্রম। এদের মধ্যে প্রায় বিলুপ্ত প্রজাতির কিছু গাছের চারা যেমন-ডেউয়া, চাপালিশ, ছাতিয়ান,বাক্সবাদাম, হিজল, সোনালু, নারিকেলি গাছের চারা।

পার্ক কতৃপক্ষ ও এলাকাবাসী জানায়, গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্ক তৈরীর অনেক আগে থেকেই ওই এলাকায় ছিল প্রচুর পরিমান শালবন। অসাধু ব্যক্তিদের কাছ থেকে এ শালবন ও সরকারী জমি রক্ষা করতেই সাফারী পার্কের উদ্যোগ নেয় সরকার। এছাড়া পর্যটকদের বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করে পার্কটি নির্মাণ করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্ক নির্মাণ হওয়ার পরও সেখানে রয়েছে প্রচুর শালবন। কিন্তু ছিল না ফলের গাছ। বন থাকলেও খাদ্যের অভাবে এ পার্কে নেই পশু-পাখির তেমন অভায়শ্রম। সাফারী পার্কের ভেতর বিভিন্ন বেষ্টনীতে রাখা হয়েছে বাঘ, সিংহ, ভাল্লুক, বানর, হরিণ, জেব্রা, জিরাফ, কুমির, হাতি, সাপ, পাখি ও ময়ূরসহ ও বিভিন্ন পশু-পাখি।

এদের মধ্যে পাখি ছাড়া প্রায় সকল পশু পার্কের বিশাল বিশাল বেষ্টুনীতে উন্মুক্ত করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে যাতে এই পার্কের ভেতর বিভিন্ন পশু-পাখির অভায়শ্রম হয় সেজন্য ৫৪ প্রজাতির ২০ হাজার ফুল-ফলসহ বিভিন্ন গাছের চারা রোপন করা হয়েছে। এছাড়া পার্কের ভারসাম্য রক্ষা এবং সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করতেও এসব গাছের চারা ভূমিকা রাখবে।

প্রায় বিলুপ্ত প্রজাতির কিছু গাছের চারা যেমন- ডেউয়া, চাপালিশ, ছাতিয়ান, বাক্সবাদাম, হিজল, সোনালু, নারিকেলি, হলদু ও রক্তন গাছের চারা রোপন করা হয়েছে। এদের মধ্যে চাপালিশ, ডেউয়া ও ছাতিয়ান গাছ প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়ে থাকে।

পশু পাখির খাদ্যের জন্য লাগানো হয়েছে- বড়ই, আমলকি, জলপাই, কামরাঙ্গা, পেয়ারা, আম, কাঁঠাল, লিচু, জাম ও আমড়াসহ বিভিন্ন ফলের গাছ। এদিকে সাফারী পার্কে আকাশ মনিসহ পরিবেশ বান্ধব নয় এমন সব গাছ অপসারন করে সেখানে লাগানো হয়েয়ে ফুল-ফলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা।

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তবিবুর রহমান বলেন- এ পার্কে বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য পশু-পাখি রয়েছে। এদেরকে খাবার দিতে হয়। প্রাকৃতিকভাবে এসব পশু পাখি কোন খাবার সংগ্রহ করতে পারে না।

পার্কে বিশাল শালবন থাকলেও এখানে পোকামাকড় ছাড়া পাখির তেমন কোন খাবার নেই। প্রাকৃতিকভাবে যাতে এ পার্কে পশু পাখিসহ বন্যপ্রাণীর অভয়াশ্রম হয় সেজন্য ফলসহ বিভিন্ন ধরণের ২০ হাজার গাছের চারা রোপন করা হয়েছে।

এ সব গাছে ফল ধরলে এমনিতেই বন্যপ্রানীরা এখানে অভয়াশ্রম গড়ে তুলবে। এছাড়া এসব গাছের ফল দিয়ে পার্কের পশু পাখির খাবার জোগান দেয়া যাবে। এতে অর্থ ও শ্রম দুই বাঁচবে। এতে বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় থাকবে।