পুরোহিতের স্ত্রীকে লাগাতার ধর্ষণ, আশুরা বলে অভিযোগ নিতে অস্বীকার পুলিশের

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:০৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯ | আপডেট: ৭:০৪:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯

ইলেকট্রিক শক দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে গোপনাঙ্গে ছুরি ঠেকিয়ে গৃহবধূকে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরির কৃষ্ণনগর মোহাটি এলাকায়।

তবে গোটা বিষয়টি জানিয়ে খেজুরি থানার দ্বারস্থ হলে আশুরার কারণে নির্যাতিতাকে ফিরিয়ে দেয় পুলিশ। বাধ্য হয়ে পড়ে পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হন নির্যাতিতা। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তদন্ত।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, মোহাটি এলাকায় স্বামীর সঙ্গে থাকেন ওই গৃহবধূ। নির্যাতিতার কথা অনুযায়ী, মঙ্গলবার তিনি বাড়ির সামনে পুকুরে স্নান করছিলেন। ঘর ফাঁকাই ছিল। তাঁর স্বামীর পৌরহিত্য করেন, ঘটনার সময়ে বাড়িতে ছিলেন না তিনি। স্নান শেষে নির্যাতিতা ঘরে ঢুকে দেখেন এক যুবক আগে থেকেই খাটের ওপর বসে রয়েছে। ওই যুবক প্রথমে গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব দেয়। তাতে রাজি না হওয়ায় গৃহবধূর ওপর চড়াও হয় সে।

গৃহবধূর অভিযোগ, তাঁর মুখে কাপড় গুঁজে দেয় ওই যুবক। এরপর গোপনাঙ্গে ছুরি ঠেকিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করে। শুধু তাই নয়, ইলেকট্রিক শক দিয়ে তাঁকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয় সে।

লাগাতার ধর্ষণের পর নিজেই দরজা খুলে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় সে। কিছুক্ষণ বাদে স্বামী এলে গোটা বিষয়টি জানান স্ত্রী। প্রথমে তাঁরা লজ্জায় আত্মঘাতী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তাঁদের কথা শুনে ফেলেন প্রতিবেশী এক মহিলা। তিনিই গ্রামবাসীদের ডেকে আনেন।

এরপর স্থানীয় খেজুরি থানায় অভিযোগ দায়ের করতে যান তাঁরা। কিন্তু মহরম বলে পুলিশও অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে বলে দাবি পরিবারের। প্রতিবেশীদের কথায় নির্যাতিতা ও তাঁর স্বামী আইনজীবীর দ্বারস্থ হন। এরপর পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা।

কিন্তু একাধিকবার অনুরোধ করার পরেও কোনও লাভ হয়নি। এরপর বাধ্য হয়ে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা। তারপর শুরু হয়েছে তদন্ত।

তবে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত যুবক। অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে সরব স্থানীয়রাও। এই ঘটনায় জেলা সনাতন ব্রাহ্মণ ট্রাস্টের পক্ষেও তোড়জোড় শুরু করা হয়েছে।

ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন ট্রাস্টের জেলা সম্পাদক। তিনি বলেন, এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। অভিযুক্তকে শাস্তি দিতেই হবে।