পুলিশের সাথে সাভার-আশুলিয়ায় শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও গুলিবিনিময়

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:১৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০১৯ | আপডেট: ৭:১৩:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০১৯

সাভার ও আশুলিয়ার হেমায়েতপুর, কাঠগড়া, জিরাবো ও নরসিংহপুর এলাকার ১৬টি পোশাক কারখানার প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক বেতন বৈষম্যের অভিযোগে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছে।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুরে ঢাকা-আরিচা সড়ক অবরোধ করে। এ সময় পুলিশ বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে চেষ্টা করলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এতে শ্রমিক ও পুলিশসহ আহত হন অন্তত অর্ধশতাধিক।

বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আহত শ্রমিক ও পুলিশদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিতে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এছাড়া আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার সাউদার্ন বিডি লিমিটেড, কন্টিনেন্টাল গার্মেন্টস লিমিটেড, হ্যাসন কোরিয়া সোয়েটার লিমিটেড, এসবিএস ডেনিম ওয়্যার লি., লিলি এ্যাপারেলস লি., ক্রস ওয়্যার লি., ম্যাট্রো নিটিং লি. ও এশিয়ান নিটওয়্যার লিমিটেড নামে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা তাদের বেতন বৈষম্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করতে কয়েক হাজার শ্রমিক বিক্ষোভে নামলে পুলিশ শ্রমিকদের বিক্ষোভ দমাতে টিয়ারশেল ও জলকামান নিক্ষেপ করে প্রতিহতের চেষ্টা করে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সাভার হেমায়েতপুর পদ্মার মোড় বাগবাড়ি এলাকা ও আশুলিয়ার কাঠগড়া, খেজুরবাগান,জিরানী ও জিরাবো এলাকায় শ্রমিকদের এ বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও শ্রমিকরা জানান, হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় বাগবাড়ি এলাকায় স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের শামস স্টাইল ওয়্যারস লিমিটেডের শ্রমিকরা সকালে কারখানায় কাজে যোগ না দিয়ে কারখানার পাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী আরও কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরাও আন্দোলনে যোগ দেন।

পরে তারা হেমায়েতপুর-শ্যামপুর সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ধাওয়া দেয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এ সময় সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত হয় ২০ শ্রমিক। পুলিশ শ্রমিকদের নিবৃত্ত করতে জলকামান নিক্ষেপ করে। সকাল ৯টা থেকে প্রায় ৩ ঘণ্টাব্যাপী চলে শ্রমিক পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া।

এদিকে আশুলিয়ার সাউদার্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা জানান, বেতন বৈষম্যের প্রতিবাদে তারাসহ আরও বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভে জিরাবো-বিশমাইল সড়কে নামলে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল ও জলকামান থেকে পানি নিক্ষেপ করে বিক্ষোভ দমাতে চেষ্টা করে। এতে প্রায় অর্ধশত শ্রমিক আহত হন।

শ্রমিকরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে শ্রমিক পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার এ ঘটনা চলতে থাকে। এতে ওই সড়কে সকল ধরনের যার চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা ও পুলিশের সাহায্যে যান চলাচল শুরু হয়।

এ ব্যাপারে শিল্প পুলিশ-১ এর পরিদর্শক মাহমুদুর রহমান জানান, শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত শিল্প পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে।