প্রতি বস্তায় চালে দাম বেড়েছে ২শ’ টাকা

প্রকাশিত: ১:৫১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০১৯ | আপডেট: ১:৫১:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০১৯
ছবি:সংগৃহিত

ঢাকাসহ সারা দেশেই চালের বাজারে চলছে অস্বস্তি।নির্বাচনের সময় সরবরাহ কম থাকার অজুহাতে  বাডিয়ে দিয়েছে চালের দাম এক দল অসাধু লোভি ব্যবসায়ী। আড়তদাররা বলেন, মিল মালিকদের সিন্ডিকেটের করনে চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। সব চালেই বস্তাপ্রতি দেড়শ’ থেকে দুইশ’ টাকা দাম বেড়েছে বেপরোয়া সিন্ডিকেটের কারণে।

পাইকারি আড়তদাররা জানান, নির্বাচনের আগেই মিল মালিকরা চালের মজুদ গড়ে তুলেন।  ওইসময় তারা বাজারে কোনো চাল ছাড়েননি। এতে করে বাজারে চালের সরবরাহ কমে আসে। তারা প্রতি বস্তায় ১৩০ থেকে ১৭০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়িয়েছেন ভোটের পর পরই । ফলে আড়তদাররা নিজেরাও বস্তাপ্রতি আরো ২০ থেকে ৩০ টাকা লাভে চাল বিক্রি শুরু করেন।

নির্বাচনের আগে বাজারে ওঠা ৪৯ চাল বিক্রি হয়েছে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) ১ হাজার ৫শ’ থেকে ১ হাজার ৫৫০ টাকায়। এখন সেই চালের দাম গিয়ে ঠেকেছে ১ হাজার ৬৫০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ৩ থেকে ৪ টাকা।  বিআর (২৮) ৫০ কেজি ওজনের ১ হাজার ৭৫০ টাকার প্রতি বস্তা এখন ১ হাজার ৯শ’ থেকে ১ হাজার ৯৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।

মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ৩৫ টাকা কেজির চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৯ টাকা কেজিতে। আবার খুচরা বাজারেই এ চাল কিনতে হচ্ছে কেজিপ্রতি আরো ৫ থেকে ৬ টাকা বেশিতে। শহরের বাঁশবাড়ি কলোনী এলাকায় থাকেন রিকশাচালক সাইফুল ইসলাম (৩৫)। ৪ সদস্যের সংসার চালাতে প্রতিদিন তাকে দুই থেকে আড়াই কেজি চাল কিনতে হয়। এজন্য গড়ে তাকে ১শ’ টাকার ওপরে গুণতে হয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিক্রেতারা নিজেদের মতো করে দাম বাড়াচ্ছেন। এতে করে আমাদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। মিলারদের কাছে আড়তদাররা জিম্মি বলে অভিযোগ করেন ময়মনসিংহ জেলা চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কাজিম উদ্দিন কাজল , ‘চালের বাজার নিজেদের কব্জায় নিয়ে মিলাররা নিজেদের আখের গুছিয়েছে।

তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছায়  চালের বাজারের লাভ-লোকসান নির্ভর করে।প্রতি বাজারে মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তিশালী হলে মিলমালিকরা এ অবৈধ সুবিধা নিতে পারতো না।’ এ দিকে মিলার দাবি করেন, ধান থেকে চাল তৈরিতে বস্তাপ্রতি একশ’ টাকা খরচ আছে। এর সঙ্গে পরিবহন ব্যয়, শ্রমিক খরচসহ আনুসাঙ্গিক বিভিন্ন খরচের কারণে চালের দাম কিছুটা বেড়েছে।