প্রধানমন্ত্রীকে অরুন্ধতি রায় ও নোয়াম চমস্কির অনুরোধ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩:২৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮ | আপডেট: ৩:২৩:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালে বলেছিলেন, ‘আমি তোমাদেরকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছি, এখন তোমরা এর সংরক্ষণ করো।’ বঙ্গবন্ধুর এ বাণীর প্রতি সম্মান দেখিয়ে নন্দিত আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে মুক্তি দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহবান জানিয়েছেন নোবেলজয়ী বিখ্যাত দার্শনিক ও বিজ্ঞানী নোয়াম চমস্কি, বুকার পুরস্কারজয়ী সাহিত্যিক অরুন্ধতি রায়সহ বিশ্বের প্রভাবশালী পাঁচ ব্যক্তিত্ব।

এক বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাঁর পিতার বক্তব্যের প্রতি সম্মান জানানোর অনুরোধ করছি। কেননা স্বাধীনতা সংরক্ষণ করা মানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংরক্ষণ করা। এ বিবেচনায় হলেও শহিদুল আলমকে মুক্তি দিন।’ শুক্রবার এ বিবৃতিটি লেখকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন পেন ইন্টারন্যাশনালের রাইটার্স ইন প্রিজন কমিটির চেয়ারম্যান সলিল ত্রিপতি তার ভেরিফাইড টুইটার অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেন।

নোয়াম চমস্কি ও অরুন্ধতি রায় ছাড়াও এতে স্বাক্ষর করেছেন কানাডার মানবাধিকারকর্মী নাওমি ক্লেইন, ভারতীয় ইতিহাসবিদ বিজয় প্রসাদ ও মার্কিন মানবাধিকারকর্মী ইভ এনস্লার।

গত ৫ই আগস্ট দেয়া ওই বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘আমরা অবিলম্বে শহিদুল আলমের মুক্তি ও তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মামলা প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। এক মাস আগে আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি এখন কারাগারে রয়েছেন। বিশ্বজুড়ে শহিদুলের মুক্তির দাবি উঠলেও বাংলাদেশের সরকার অবিচল।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে তরুণদের আন্দোলনের সময় তার ভূমিকার জন্য ৫৭ ধারায় আইসিটি আইনে মামলা দায়ের করা হয়। একসঙ্গে আটক হওয়া অন্যরা জামিন পেলেও তিনি মুক্তি পাননি। বারবার তার জামিনের শুনানি স্থগিত করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, রাষ্ট্র বিদ্বেষমূলকভাবে তার বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ আনতে পারে। ’

বিবৃতিতে শহিদুলের আটকের ঘটনা উল্লেখ করে তারা আরো বলেন, নন্দিত আলোকচিত্রী শহিদুল আলম সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে বিতর্কিত ৫৭ ধারায় আইসিটি আইনে দায়ের করা একটি মামলায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন। গত ৫ই আগস্ট তাকে ধানমন্ডির বাড়ি থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে যায়।

পরদিন পুলিশ তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। ৬ই আগস্ট তাকে ঢাকা জজ কোর্টে তুলে পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে তাকে ৭ দিনের রিমান্ড দেয়া হয়। কোর্টে শহিদুল পুলিশ কাস্টডিতে তার ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ করেন। তিনি উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করেন। ৭ দিনের রিমান্ড শেষে ১৩ই আগস্ট আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায়।